‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রয়োজন শক্তিশালী বেসরকারি খাত’

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:০৮
 
‘‘দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আর আর্থিক খাতের সঙ্গে যত বেশি দরিদ্র মানুষকে সংযোগ করা যাবে বেসরকারি খাতও তত বেশি শক্তিশালী হবে।’’ সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. কৌশিক বসু এ কথা বলেন।
 
‘সামষ্টিক অর্থনীতি, বেসরকরি খাতের উন্নয়ন এবং অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয় সংক্রান্ত বিভাগ ইউএনডেসা। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক কৌশিক বসু বলেন, দেড় দশকে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পেরেছে। গত পাঁচ বছর ধরে ছয় শতাংশের ওপর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এ প্রবৃদ্ধিতে ধনী-গরিব সবারই অবদান আছে।
 
কৌশিক বসু বলেন, একটি দেশের সরকার দরিদ্র মানুষের কাছে যদি খাবার পৌঁছাতে যায় তবে সেখানে অনেক গ্যাপ থেকে যায়; অনেক খাবারের অপচয় হয়। খাবার না দিয়ে যদি গরিব ও প্রান্তিক মানুষদের কাছে টাকা পৌঁছানো যায় অর্থাত্ আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় তবে অনেক লাভ হয়। কারণ তাদের হাতে যখন টাকা থাকবে তখন তাদের নিজস্ব পছন্দ প্রাধান্য পাবে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তারা পছন্দমত জায়গায় তা ব্যয় করতে পারবে। আর তাদের চাহিদা মেটাতে অনেক নতুন নতুন বেসরকারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ঠিক এ সময়টাতেই সেদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে বলে জানান তিনি।
 
গরিব ও প্রান্তিক মানুষদেরকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ বেশ কিছু কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গরিব মানুষকে আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে; যা উল্লেখ করার মত। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও মোবাইল ব্যাংকিং। এগুলোর কারণে মানুষের টাকার ব্যবহার বেড়েছে ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শক্তিশালী মুদ্রানীতির কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশ্ব মন্দার কোন প্রভাব নেই উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অর্জন।
 
ড. কৌশিক বসু আরো বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অর্জন। বাংলাদেশই শিখিয়েছে দরিদ্রতা, প্রতিবন্ধকতার পরও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে কীভাবে কার্যক্রম শুরু করতে হয়। এসব বিষয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুসরণীয় উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি শিক্ষণীয় কিভাবে তারা দারিদ্র্য দূর করছে এবং মানুষকে আর্থিক খাতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরি প্রস্তুত ‘টেক অফ’ করার জন্য। খুব কম দেশই রয়েছে যাদের অর্থনীতি এভাবে উঠতে পারে।
 
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মনে করেন, গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নের সমবণ্টনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জরুরি। সরকারি-বেসরকারি খাতগুলোকে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন কৌশিক বসু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এবং ইউডিইএসএ গ্লোবাল ইএকাএনামিক মনিটরিং ইউনিএটর পণ্ঠধান ড. হামিদ রশিদ। অনুষ্ঠানে কো-চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল।