অবশেষে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাহমুদুল হক। দীর্ঘ সাত বছর আইনি লড়াই করে অবশেষে তার এ যোগদান। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেন তিনি।
গত ৪ মার্চ ‘সুপ্রীম কোর্টের রায় অমান্য করে ফের শিক্ষক নিয়োগ’ শিরোনামে ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশ হয়। শনিবার (৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ তম সিন্ডিকেটের (জরুরী) মাধ্যমে তার নিয়োগ কার্যকর করা হয়। গত রবিবার (১০ মার্চ) তাকে নিয়োগপত্র হাতে তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।
জানা যায়, ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্যান্য বিভাগের পাশাপাশি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ২ জন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর ২০১২ সালে ১৩ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ড তাদের নিয়োগ সম্পন্ন করে। নিয়োগ বোর্ড ৩ জনকে মেধা তালিকায় রাখে। এতে বলা হয়, মেধা তালিকা থেকে কেউ যোগদান করতে না চাইলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে প্রথমজন যোগদান করবেন। যদি প্রথম জন যোগদান করতে ব্যর্থ হন তাহলে দ্বিতীয় জন যোগদান করবেন। কিন্তু প্রথম জনকে বাদ দিয়ে যোগদান করানো হয়েছে তৃতীয় জনকে যা ছিল নিয়োগ বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপন্থি। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে অপেক্ষমাণ তালিকার প্রথম স্থানে থাকা মাহমুদুল হক এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। আদালত তার মামলা গ্রহণ করে ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর মাহামুদুলকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়।
এর আগে ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তার জন্য একটি স্থায়ী পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। এ মামলার কারণে বিভাগে দুবার শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিলের আবেদন করলে (লিভ টু আপিল নয় ৭৫/২০১৮) তা খারিজ করে ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে মাহামুদুলকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিমকোর্ট।
রায়ের দুুটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে কোন তথ্যগত ও আইনগত দুর্বলতা নেই। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের করা লিভ-টু-আপিলের (আপিলের অনুমতি) কোন মেরিট নেই। তাই লিভ-টু-আপিল খারিজ করা হলো। পরে রিভিউয়ের আবেদন করলে সেটিও চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেয় সুপ্রীম কোর্ট।
আরও পড়ুনঃ মঠবাড়িয়ায় ক্যান্সারে আক্রান্ত মেধাবী শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল হক বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার সাত বছর আগে পাওয়া নিয়োগ গতকাল (রবিবার) কার্যকর করেছে। এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি মামলার হাসনাত কাইয়্যুম ভাইকে ও মাননীয় উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করে ফ্রেস নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে বাংলাদেশে সম্ভবত আমিই প্রথম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আদালতের রায় থেকে শিক্ষা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধাবীদের স্থান দিয়ে উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে বলে আমি আশা রাখি।’
ইত্তেফাক/নূহু

