এমএনপি অপারেটর নিলামের শর্তে পরিবর্তন আসছে : তারানা হালিম

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫, ২২:১৪
 
মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের কাজ কারা পাবে, সেই প্রক্রিয়া ‘স্বচ্ছ’ করতে আরো শর্ত যোগ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
 
গুরুত্বপূর্ণ এই কাজের লাইসেন্স দেয়ার নিলাম পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে ‘টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যক্রমের অগ্রগতি বাস্তবায়নের পর্যালোচনা সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।
 
কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান অপারেটরদের যোগসাজশের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এমএনপি অপারেটর নিয়োগে এমন শর্ত রাখা হবে, যাতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের যোগসাজশের সুযোগ থাকবে না। তবে কী কী শর্ত রাখা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না।
 
নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলানোর বহু প্রতীক্ষিত সুযোগ তৈরির নীতিমালায় (এমএনপি নীতিমালা) গত ২ ডিসেম্বর অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর এমএনপি অপারেটর নিয়োগের নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। আগামী বছরের শুরুতেই গ্রাহকরা এ সুবিধা পেতে যাচ্ছেন বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন তারানা হালিম।
 
নিলামের ভিত্তিতে কাজটি দিলে নিম্নতম দরদাতা প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। এক্ষেত্রে যোগ্যতম প্রতিষ্ঠান বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন টেলিকম সংশ্লিষ্ট অনেকে। 
 
এ বিষয়ে তারানা হালিম বলেন, লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে বিডিং প্রসেসটা হয় কি না, বিষয়টি নিয়ে যাচাই-বাছাই করতে হবে। টেকনিক্যাল কোয়ালিফিকেশন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে হবে, তার ভিত্তিতে গ্রেডিং করা হবে। স্বচ্ছতাকে নিশ্চিত করতে কিছু রিভিশন করতে হবে।
 
এমএনপি চালু হলে কোনো অপারেটরের সেবায় সন্তুষ্ট না হলে গ্রাহকের অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে; বর্তমানে নম্বর বদলানোর ঝক্কিতে যারা অপারেটর বদলাতে চান না।
 
বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটররা এমএনপি নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজস করছে বলেও অভিযোগ উঠছে।
 
এ বিষয়ে তারানা হালিম বলেন, সেটা যেন না করতে পারে, তার জন্য যা যা উদ্যোগ নিতে হবে, তা আমরা নিচ্ছি।
 
বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, এমএনপি অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বৈঠকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে।
 
বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দেয়া চূড়ান্ত নীতিমালায় এমএনপি অপারেটর নিয়োগ নিলামের মাধ্যমে করতে বলা হয়েছে।
 
এমএনপি সুবিধা দিতে অপারেটরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণের বিষয়টিও অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এমএনপি সুবিধা নেয়ার পর এক গ্রাহককে পরবর্তী অপারেটরে যেতে অপেক্ষা করতে হবে ৪৫ দিন।
 
বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ছাড়াও প্রতিবেশি ভারত ও পাকিস্তানে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি পরিষেবা চালু রয়েছে।