মালির রাজধানী বামাকোর বিলাসবহুল রেডিসন ব্লু হোটেলে ইসলামি জঙ্গিদের হামলার একমাসেরও কম সময়ের মধ্যে হোটেলটি পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে। হোটেলটি খুলে দেয়ার অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোওবাকার কেটিয়া বলেন, জিহাদির বিরুদ্ধে এটি জীবনের জয়।
ওই হামলায় দুই হামলাকারীসহ ২২জন নিহত হন। সোমবার মালির সরকারি আইন কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারীরা অবশ্যই সোমালি। তবে তদন্তকারীরা তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমালিয়ার ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাব এই অভিযোগের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে তিনটি জিহাদি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। এরমধ্যে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসলামিক মাগরিবও (একিউআইএম) রয়েছে। রেডিসন ব্লু হোটেলের ম্যানেজার গ্যারি ইলিস জানিয়েছেন, হোটেলের চারদিকে বেড়া দেয়া হয়েছে এবং মালামাল পরীক্ষার জন্য স্ক্যানার বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিজয়ীর উৎসাহ নিয়ে আমাদের কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু করেছি। ওই ভয়াবহ হামলার স্মৃতি আমাদের মুছে ফেলা প্রয়োজন।
২০ নভেম্বর সকালে ওই হোটেলে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়ে ১৭০ জনকে জিম্মি করে। পরবর্তীতে কমান্ডো অভিযানের মধ্যদিয়ে এর রক্তাক্ত অবসান ঘটে। প্যারিসে জঙ্গি হামলায় ১২৯ জন নিহতের ঘটনার রেশ না কাটতেই মালি রেডিসন ব্লু নামের হোটেলটিতে এই হামলা চালানো হয়েছিল। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং কূটনৈতিক অফিসগুলোর কাছে শহরের কেন্দ্রস্থলের পশ্চিমে হোটেলটির অবস্থান।
২০১২ সালে মালির উত্তরাঞ্চল দখল করেছিল জঙ্গিরা। এদের কারও কারও সঙ্গে আল কায়েদারও যোগ ছিল। ফরাসি বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উৎখাত করলেও মাঝে মধ্যেই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। মালিতে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা দেশের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজধানী বামাকো দখলের হুমকি দেওয়ার পর ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সেখানে সেনা মোতায়েন করে ফ্রান্স। রয়টার্স।
