ধনী দেশগুলোতে যেখানে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুহার কমছে সেখানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ক্যান্সার আক্রান্তের হার বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে এক গবেষণায়।
‘আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি’র গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ক্যান্সার সনাক্তকরণ পদ্ধতির উন্নতি এবং ধূমপানের মত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো পরিহারের কারণে উন্নত দেশগুলোতে নতুন করে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়া এবং ক্যান্সারে মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে সারা বিশ্বে এক কোটি ৪১ লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে ৮২ লাখ মানুষ মারা গেছে। গবেষকরা ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’ (আইএআরসি) এর ২০০৩ সাল থেকে ২০০৭ সালের তথ্য উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। ২০০৭ সালে পাঁচটি মহাদেশে নতুন করে কতজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হয়।
মানুষ সাধারণত স্তন, প্রস্টেট, কলোরেক্টাল, ফুসফুস, খাদ্যনালী, পাকস্থলী, যকৃত ও গর্ভাশয়ের ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হন। গবেষকরা এই আট রকমের ক্যান্সারকে বিবেচনায় রেখে গবেষণা কাজ পরিচালনা করেন। তারা দেখেন ধনী দেশগুলোতে এ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার হ্রাস পাচ্ছে। যেখানে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ওই হার বাড়ছে। এজন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সঠিক সনাক্তকরণ পদ্ধতির অভাব এবং ক্যান্সারের সঠিক চিকিত্সার অভাবকে দায়ী করেছেন গবেষকরা।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি’র গবেষক লিন্ডসেই তোরে বলেন, ‘এ গবেষণা ক্যান্সারের বিস্তার সম্পর্কে আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু দেবে। সেই সঙ্গে বিশ্বে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ঠিক কি বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করা উচিত এখান থেকে সে সম্পর্কেও কিছু ধারণা পাওয়া যাবে।’ সূত্র: আইএএনএস
