মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বুধবার বঙ্গভবনে আয়োজিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেও শেষ পর্যন্ত তাতে অংশ নিতে পারেননি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সময়মতো উপস্থিত হলেও তাকে বঙ্গভবনের ফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
IMG0
এই ঘটনার পরপরই বাসায় ফেরার পথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘একজন বীরপ্রতীক-এর জন্য বিজয় দিবসের উপহার’ শিরোনামে সৈয়দ ইবরাহিম লিখেছেন ‘বিজয় দিবসে একজন বীরপ্রতীককে অপমান করা কি জরুরি?’
এ ব্যাপারে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘আমার তিনটি পরিচয় আছে। আমি একজন বীরপ্রতীক। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। আমি নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। আমাকে বিজয় দিবস উপলক্ষে চিঠি দিয়ে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট প্রবেশপথে যাওয়ার পর সেখানে অবস্থান করা একজন ক্যাপ্টেন আমাকে বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন, আপনি প্রধান গেট দিয়ে যান। এরপর আমি প্রধান গেটে চলে আসি। সেখানে অবস্থান করা সার্জেন্ট আমাকে জানান, তার (সার্জেন্ট) কাছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) একটা তালিকা আছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে পারবেন না। দুঃখিত বলে আমাকে ফেরত যেতে বলা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই অপমানিত বোধ করছি। ১৯৮০ সাল থেকে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও ঈদ উপলক্ষে আমাকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমাকে দাওয়াত না দিলে এক কথা। আমার আজকের পরিচয় সামপ্রতিক। এটা বদলে যেতে পারে। কিন্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা অপরিবর্তনীয়, নায়করা নায়কই থেকে যাবেন। আমার বীরপ্রতীক পরিচয় থেকেই যাবে, তা মুছবে না।’
সম্বর্ধনায় আমিনীর ছেলেসহ ২০ দলের ৫ নেতা
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে ফিরিয়ে দেয়া হলেও বঙ্গভবনের সম্বর্ধনায় ২০ দল শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, ভাইস চেয়ারম্যান মাও. জোবায়ের আহমেদ ও মহাসচিব ফয়েজ অংশ নিয়েছেন। জোটের আরেক শরিক জমিয়তে ওলামা ইসলামের নেতা মুফতি ওয়াক্কাসও এতে যোগ দেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ২০ দলের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা মরহুম মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে আবুল হাসানাত। আবদুল লতিফ নেজামী পরে ইত্তেফাককে বলেন ‘হ্যাঁ, আমরা সম্বর্ধনায় গিয়েছিলাম।’
