পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধ অস্বীকার, বাংলাদেশে ক্ষোভ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:১০
 
বাংলাদেশে বুধবার উদযাপন করা হল ৪৪তম বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর  লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল সেই বিজয়। অথচ সেসময়ে সংগঠিত পাকিস্তান ও তার সহযোগীদের যুদ্ধাপরাধ মেনে নিতে কিছুতেই রাজি নয় পাকিস্তান। আর সে কারণেই ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কে ছেদের কথা ভাবছে ঢাকা।
 
হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়। সেখানে আরো উল্লেখ করা হয়, এরই মধ্যে ইসলামাবাদের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সঙ্গে রাস্তায় অনেকেই পাকিস্তানের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
 
পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদ করার জন্যে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারগুলো পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে।
 
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দাবি করে, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়, অনেকে আশ্রয় নেয় ভারতে, ধর্ষণের শিকার হন দুই লাখের বেশি নারী। কিন্তু পাকিস্তান দাবি করে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে কোন গণহত্যা হয়নি। সম্প্রতি ১৯৭১ সালে করা যুদ্ধাপরাধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত ইসলামের নেতা আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির সমালোচনা করে পাকিস্তান। বিষয়টির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ।
 
পাকিস্তানের করা এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলে বাংলাদেশের 'সেক্টর কমান্ডার ফোরাম'। পাকিস্তানের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনারকে ডেকে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানায়। সেই সঙ্গে ইসলামাবাদকে এ ধরণের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়।
 
হিন্দুস্তান টাইমসে জানানো হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে এই সম্পর্কের আরো অবনতি হয়, যখন বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত মাজহার খানের সঙ্গে জঙ্গি অর্থায়নের সম্পর্ক পায়। এই ঘটনায় তাকে পাকিস্তানে ফেরত যেতে বাধ্য করা হয়। এরপর অপর এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়, যার সঙ্গে পাকিস্তান দূতাবাসের অপর এক নারী কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে ১৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসে প্রতিবাদ পত্র প্রেরণ করে পাকিস্তান। হিন্দুস্তান টাইমস।