জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেবেন এক লাখ ওলামা-মাশায়েখ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:৫৭
 
বাংলাদেশের এক লাখ ইমাম, ওলামা-মাশায়েখ একযোগে ফতোয়া দেবেন যে, জঙ্গিবাদ ইসলাম ধর্ম পরিপন্থী। জঙ্গিরা পথভ্রষ্ট। তাদের মদদদাতারা বিদেশি, বিধর্মী এবং ইসলাম ধর্মের প্রকাশ্য শত্রু। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর জীবনীর আলোকে তারা জঙ্গিবাদ বিরোধী পুস্তক প্রণয়ন করবেন। সেটা সারাদেশে মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ-মাহফিলে তুলে ধরা হবে। ইসলাম ধর্মের কথা বলে যারা জঙ্গিবাদ করছে- তাদেরকে একযোগে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আলেম ওলামাগণ।
 
মহাপুলিশ পরির্দশক ( আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা ব্যক্ত করেন দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাগণ। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি  মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে  বক্তব্য রাখেন দেশের ১৪ জন আলেম ও ধর্মীয় নেতা।
 
সভায় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, যারা ইসলামের নামে জঙ্গি তত্পরতা চালাচ্ছে তারা ইসলামের দুশমন, মুসলমানদের দুশমন। তারা ইসলামের যে ক্ষতি করছে তা আবু যাহেলও করতে পারেনি। তারা বিকৃত চেতনার মানুষ।
 
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেমদের সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন চুপ করে থাকার সময় নেই। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা ইমানি দায়িত্ব। নিজেদের আত্মরক্ষার জন্যও প্রয়োজন। নইলে তারা হুর-পরি পাওয়ার জন্য আপনাদের গলায়ও ছুরি ধরতে পারে। তিনি বলেন, ওলামা-মাশায়েখদের বয়ান ও ওয়াজ মাহফিলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।
 
মাওলানা মাসউদ বলেন, সারা দেশে প্রায় তিন লাখ ইমাম আছেন। আরো তিন লাখ মুয়াজ্জিন আছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক লাখ ইমামের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি ফতোয়া বের করে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
 
সভায় আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আলেম ওলামা মাশায়েখগণই বিভ্রান্তির হাত থেকে তরুণদেরকে সুপথে পরিচালিত করতে পারেন। আমরা আপনাদেরকে নিয়ে জঙ্গিবাদকে দেশ থেকে নির্মূল করতে সক্ষম হবো।
 
তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম নিয়ে একেকজন একেক ধরনের কথা বললে মানুষ বিভ্রান্ত হবে। ইসলামের ব্যাখ্যা একই রকম হতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ হওয়ার লোভে যে সব যুবক সন্ত্রাসে লিপ্ত হচ্ছে তাদেরকে সঠিক পথে আনতে হবে। তারা যেন বিপথে না যায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইএস প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, আন্ত্তর্জাতিক রাজনীতির ফসল হচ্ছে আইএস।
 
পুলিশ প্রধান বলেন, জেহাদের নামে মসজিদে নিরীহ মানুষ হত্যা করা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। গুটি কয়েক লোক ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে। এটা কোন মুসলমানের কাজ হতে পারে না।
স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, আলেমরা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ করতে পারেন।
 
মুফতি আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। মানুষের কাছে ইসলামের সত্যিকার আদর্শ তুলে ধরতে হবে। মাওলানা আব্দুল হক বলেন, ইসলাম সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, মানুষের জানমালের ক্ষতি করা সমর্থন করে না। মানুষকে সত্য পথে চলা, সত্ কাজ করার পরামর্শ দিতে হবে। তিনি প্রত্যেক জেলায় আলেম-ওলামাদের নিয়ে এ ধরনের সভা করার পরামর্শ দেন।
 
মাওলানা কাজী ফজলুল করিম বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অপরাধ এ তিনটি তিন জিনিস। ইসলাম কখনো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় না। তিনি বলেন, ওলামা-মাশায়েখগণ যেন সরকারের প্রতিপক্ষ না হয়। এজন্য সকলকে পরমত সহিষ্ণু হতে হবে ।
 
মাওলানা আরিফ উদ্দিন মারুফ বলেন, ইসলাম হলো চেতনার তৈরির ধর্ম। ইসলামের প্রতি মানুষের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তিনি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয়, জেলা ও থানা পর্যায়ে কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। তিনি মানুষের মানসিকতা গঠনে লেখালেখি করার জন্য ওলামা-মাশায়েখদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
 
হযরত মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে তার সাথে আলেম-ওলামাদের কোন সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে।
 

হযরত মাওলানা রুহুল আমিন খান উজানি বলেন, যে জঙ্গিবাদের উসকানি দেয় সে সত্যিকারের মুসলমান নয়। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের মূল উত্পাটনের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।