জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে এ জাতির যে ত্যাগ, সংগ্রাম ও লড়াই এর কিছুই বিফলে যায়নি। স্বাধীনতার ৪৬ বছরে আমাদের অর্জন অনেক। বাংলাদেশকে কেউই এখন আর দরিদ্র দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে না। যারা বলে থাকেন কোনো অর্জনই নেই কিংবা স্বাধীনতা ব্যর্থ, তারাই বরং এখন ব্যর্থ হতে চলেছেন।’ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার আন্দোলন শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। তখন এর একমাত্র সহযোগী ছিল ছাত্রলীগ। আন্দোলন যখন সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন নানা মত-পন্থী এসে যুক্ত হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত এই জাতি ও রাজনীতি ঐক্যবদ্ধ-ই ছিল। অনৈক্য সৃষ্টি হয় ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর। তখনই শুরু হয় বিভিন্ন মত-পথের রাজনীতি। যে উদ্দেশ্য-আদর্শকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সাড়ে সাত কোটি মানুষের যেই স্বপ্ন ছিল- নবসৃষ্ট ওইসব মত-পথই জাতিকে ভিন্নপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে- রাজনীতি ও গণতন্ত্র খুব খারাপ জিনিস, রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিবাজ, ইত্যাদি। এদের কণ্ঠের সঙ্গে আইয়ূব খানের কণ্ঠের মিল পাওয়া যায়। আইয়ূব খানও তার বইতে লিখেছিলেন- স্বাধীনতাকামী এসব মানুষ (তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের) অশিক্ষিত, মূর্খ, এরা গণতন্ত্রের কী বোঝে। বাঙালি জাতিকে বলেছিল ভেড়ার পাল। একইভাবে ১/১১’র সময়েও রাজনীতিবিদদেরই ওপরই আক্রমণ আসে, দেশবাসীকে রাজনীতি বিমুখ করার অপচেষ্টা করা হয়। এখান থেকে বের হয়ে আসতে হলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জেপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা এখনও অতীত থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না। যেহেতু আমরা বিজয়ী দল, সেজন্য ৪৬ বছর পর এসে আমাদের বলা উচিত অর্জন নিয়ে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আগে বাংলাদেশকে যে চোখে দেখতো, তাদের এখনকার দেখায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, এবারের জলবায়ূ সম্মেলনেও ১৯৫টি দেশের সামনে বাংলাদেশ বলেছে- পৃথিবী সংকটাপন্ন; মানুষ, পশুপাখি ও গাছপালার জন্য পৃথিবী অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যের সাহায্যের দিকে তাকিয়ে বসে নেই। কাজেই বাংলাদেশ এখন আর আগের ভাষায় কথা বলে না। সমালোচকদেরও ভাষা পরিবর্তন হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা তারা আর বলতে পারে না, এখন বলে- গণতন্ত্রটা দুর্বল।
