কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগার থেকে সামনের সপ্তাহে ১৭ বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি বলছে, এই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হলে বিশ্বব্যাপী কুখ্যাতি পাওয়া বন্দিশিবিরটিতে কারাবন্দির সংখ্যা ৯০ জনে নেমে আসবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাসটন কার্টারকে উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বলছে, বন্দিমুক্তির এই বিষয়টি ইতোমধ্যে কার্টার মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করেছেন। ২০০২ সালের ১১ জানুয়ারি গুয়ানতানামো কারাগারে প্রথম ২০জন বন্দি পাঠানো হয়। ধীরে ধীরে বন্দির সংখ্যা ৭৮০তে উন্নীত হয়েছিল।
কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিবিরে এই কারাগারটি স্থাপন করা হয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শত্রু শিবিরের যোদ্ধাদের আটক করে রাখা হত। আটক বন্দিদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়নি কিংবা তাদের বিচার হয়নি।
কার্টার সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কম ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ বন্দিকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পৃথকভাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, 'আমরা ১৭বন্দির পুনর্বাসনের স্থান খুঁজে পেয়েছি।'
বেশ কয়েকটি দেশ তাদের গ্রহণ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে বলেও তিনি জানান। নিউ ইয়র্কভিত্তিক একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগের প্রশংসা করে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুয়ান্তানামো কারাগার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাওয়ার আগেই ওবামা গুয়ান্তানামো বে কারাগার বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৫ সালে ২০ জনেরও বেশি বন্দিকে বিভিন্ন দেশে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস বন্দিদের এ ধরনের পুনর্বাসনের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের অন্ততপক্ষে ৩০ দিন আগে পেন্টাগনকে এইমর্মে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে যে, মুক্তি পেতে যাওয়া বন্দিরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কোনো বন্দির মুক্তি কিংবা পুনর্বাসনের যেকোনো পদক্ষেপ আইনপ্রণেতারা প্রতিরোধ করে আসছেন। অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ হওয়ার কারণে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ বন্দিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশ গুয়ানতানামো বন্দিদের পুনর্বাসিত করেছে।
