দাম কমেছে আলুর, পেঁয়াজে স্বস্তি

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:৫৭
 
শীতের মৌসুমি সবজির ভিড়ে কাঁচাবাজার ও আড়তে দাম কমেছে আলু ও পেঁয়াজের। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি নতুন আলু ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে ক্রেতাদের।
 
নতুন আলু আসায় বাজারে পুরনো আলু তেমন নেই; যা আছে সেগুলোও বিক্রি হচ্ছে নতুন আলুর সমান দামে।  দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে। তবে দেশি পুরনো পেঁয়াজ এখনো ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে।
 
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন আলু ও পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। এছাড়া ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য কমিয়েছে। ফলে বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দাম কমেছে।
 
নতুন আলু ও পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে এলেও এ দুটো পণ্যের দাম আরো কমবে বলে মনে করেন শ্যামবাজার কৃষিপণ্য আড়ৎ বণিক সমিতির অর্থ সম্পাদক মহসিন উদ্দিন ভুলু মিয়া।
 
তিনি বলেন, বাজারে নতুন আলু ও পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহে আরেকটু দাম কমবে।
 
বৃহস্পতিবার শ্যামবাজারে ১০০ কেজি নতুন আলু (হল্যান্ড-ডায়মন্ড) ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর নতুন দেশি পেঁয়াজ ১০০ কেজি ২০০০ থেকে ২৬০০ টাকা, আমদানি করা পেয়াজ ২৩০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে বলে জানান ভুলু মিয়া।
 
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়য় থেকে আলুর দাম বাড়তে শুরু করে। ২২-২৫ টাকা কেজি দরে যেসব আলু বিক্রি হচ্ছিল তা গিয়ে দাঁড়ায় ৪০ টাকায়।
 
এর আগে পেঁয়াজের দর ১০০ টাকা অতিক্রম করেছিল বর্ষায়। ভারতের প্রধান প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনশীল অঞ্চলে ভারী বর্ষায় পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর দেশটির সরকার পেঁয়াজের রফতানি কমাতে রফতানিমূল্য প্রতি টন ৭০০ ডলার নির্ধারণ করে। এরপর বাংলাদেশের বাজারেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়, যা অনেকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
 
এছাড়া শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চিনির দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। এদিনও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেশি, অর্থাৎ ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি দরে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে।
 
বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও শুক্রবার তা ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
 
শীত মৌসুমের অন্যতম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির সরবরাহ কিছুটা কমেছে; তবে দাম বাড়েনি। প্রতি পিস ফুল ও বাঁধাকপি ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দাম কমেটে টমোটোরও। বর্তমানে পাকা টমেটো ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। শিম বিক্রি হচ্ছে জাতভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। মূলা ২০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
 
প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।  এদিকে মসলা পণ্যের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেল ও রসুনের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে।
 
গত সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার সর্বোচ্চ ৭৮ টাকায় মিললেও শুক্রবার তা পৌঁছেছে ৮০ টাকায়। আর রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছ।
 
আমদানি করা রসুন গত সপ্তাহে ৯০ থেকে ১১০ টাকা পাওয়া গেলেও শুক্রবার তা কিনতে হয়েছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। বিডি।