পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা ধারাবাহিকভাবে আচরণবিধি লংঘন করছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় তারা এর সুযোগ নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনকে ‘সরকারের আজ্ঞাবহ’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিদিনই আমাদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই নির্বাচনে বিধিমালা ভঙ্গের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সেই সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কোনো মাথাব্যথা নেই।
বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে পৌরভোট সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন নোমান।
তিনি বলেন, পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে না। এতে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না। ওই ৫ জানুয়ারির (দশম সংসদ নির্বাচন) নির্বাচনের মতো আরেকটা প্রহসনের নির্বাচন তারা করছে।
তবে ভোট সুষ্ঠু হলে শতকরা ৮০ ভাগ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হবেন বলে দাবি করেন আবদুল্লাহ আল নোমান।
রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এই সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। অসুস্থতার জন্য ফখরুল আসতে পারেননি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। তার জায়গায় সভায় সভাপতিত্ব করেন আবদুল্লাহ আল নোমান।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যায়নি। দেশের মানুষের অধিকার আজ ভুলুণ্ঠিত, মানবাধিকার নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র নির্বাসিত। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত করতে হলে প্রথমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য সকলকে দেশনেত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মনির হোসেন, ছাত্রদলের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বক্তব্য রাখেন।
