ইয়েমেনের অস্ত্র বিরতি শুক্রবার ভেঙে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের কাছ থেকে দুটি শহর দখল করে নিয়েছে এবং তাদের সমর্থিত সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে সংঘাত জোরদারের অভিযোগ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অস্ত্র বিরতি বজায় রাখা সকল পক্ষের জন্য অতীব জরুরী বলে উল্লেখ করেছেন। উভয় পক্ষ পৃথকভাবে অস্ত্র বিরতি লঙ্ঘনের পর তিনি এ কথা বলেন। এদিকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে পৃথক শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকার পক্ষের এক সদস্য জানান, শুক্রবার সকালে একটি বৈঠক করতে বিদ্রোহীরা ব্যর্থ হলেও শনিবার শিয়া হুতিদের সঙ্গে আলোচনা ফের শুরু হবে। বিভিন্ন উপজাতি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট আবদ্রাবু মনসুর হাদির বিশ্বস্ত বাহিনী ও তাদের মিত্র উপজাতিরা দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর জাফ প্রদেশের রাজধানী দখল করে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সেনা সদস্যরা সৌদি আরব থেকে ইয়েমেনে ঢোকার পর লোহিত সাগর তীরবর্তী হাজ্জা প্রদেশের হারাদ শহর দখল করে নিয়েছে। এসব সেনা সদস্য সৌদি আরবে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং অস্ত্র সজ্জিত হয়ে ইয়েমেন ঢুকেছে। এক কর্মকর্তা জানান, হারাদ অভিযানে প্রায় এক হাজার সৈন্য অংশ নেয়। তিনি বলেন, শহরটিতে ব্যাপক যুদ্ধ হয়েছে। এখানে প্রায় ২৫ হাজার লোকের বাস।
তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র বিশ্বস্ত বেশ কয়েকজন সৈন্য ও ইরান সমর্থিত হুতিদের কয়েকজন মিত্র নিহত হয়েছে। সামরিক সূত্র জানায়, অগ্রগামী বাহিনী লোহিত সাগরের মিদি বন্দর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
এছাড়া শুক্রবার সরকারপন্থি মিলিশিয়ারা সানা প্রদেশের একটি এলাকা দখল করে নিয়েছে বলে সরকারপন্থি পপুলার রেজিস্ট্যান্স মিলিশিয়া ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে সৌদি জোট বলেছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে সৌদি আরব। এছাড়া দ্বিতীয় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের নাজরান নগরীর পূর্বাঞ্চলের একটি মরুভূমিতে আঘাত হানে। সালেহ’র অনুগত সৈন্যদের এক মুখপাত্র দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন। এএফপি।
