‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’ দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যাচ্ছেন ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেস দলের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ও তার পুত্র দলের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। আজ বিকালে দিল্লির পাটিয়ালা আদালতে শুনানির পর সিদ্ধান্ত হবে এই মামলায় জামিন পাচ্ছেন নাকি জেলে যেতে হবে মা-ছেলেকে?
কংগ্রেসের এই শীর্ষ দুই নেতার হাজিরাকে কেন্দ্র করে আঁটসাঁট নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাজধানী দিল্লি৷ পাটিয়ালা কোর্ট চত্বরে ৭০০ নিরাপত্তা কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে৷ একটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে৷ আদালত চত্বর জুড়ে বসানো হয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা৷ সোনিয়া ও রাহুল আসার পরেই বন্ধ করে দেওয়া হবে আদালতের একটি প্রবেশদ্বার৷
বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়াম সোয়ামির আনা আর্থিক প্রতারণা ও তছরুপ মামলায় এই দুই জনের জামিন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার কারণ, মামলাটি করেছেন নির্দিষ্ট এক ব্যক্তি, সরকার নয়৷ আজ কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালার বিবৃতিতেও জামিনের আবেদনের ইঙ্গিত মিলেছে৷ সুরজেওয়ালা জানান, আমরা সবরকম আইনি ব্যবস্থার কথা মাথায় রাখছি৷ জামিনের বিষয়েও ভাবছি৷
IMG0
প্রথমে কথা ছিল, সোনিয়া- রাহুলের হাজিরার ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লিতে অবস্থান করবেন কংগ্রেস কর্মীরা৷ পরে অবশ্য সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গুলাম নবি আজাদ জানান, আদালতের সামনে হই হট্টগোল করলে সাধারণ মানুষ ভাল চোখে দেখবেন না৷ তবু সভানেত্রী ও সহসভাপতিকে আর্থিক দুর্নীতিতে ‘জড়ানোর’ ঘটনায় সাধারণ কংগ্রেস কর্মীরা বেশ ক্ষিপ্ত৷
সকাল থেকে আদালত লাগোয়া এলাকায় প্রায় ৫০০ কংগ্রেস কর্মী ভিড় জমিয়েছেন৷ ২০১২ সালে সোনিয়া, রাহুল ও চারজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, তছরুপ ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা দায়ের করেন সুব্রামানিয়াম সোয়ামি৷ তখন তিনি বিজেপিতে যোগ দেননি৷ ওই মামলার ভিত্তিতে ২০১৪ সালে সমন পাঠানো হয়। তবে হাজিরায় স্থগিতাদেশ চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে পাল্টা আবেদন করেছিলেন তাঁরা৷ এ মাসের শুরুর দিকে সেই আবেদন নাকচ হয়েছে হাইকোর্টে৷ আর তাই হাজিরা দিতেই হচ্ছে৷ বিবিসি।
