মাথাপিছু আয় ছাড়া অন্য খাতে উন্নতি করলেও মানব উন্নয়ন সূচকে গতবারের অবস্থানেই রয়েছে বাংলাদেশ। মানব উন্নয়ন নিয়ে সদ্য প্রকাশিত জাতিসংঘের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানব উন্নয়ন সূচকে পয়েন্ট গতবারের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও ১৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আগের ১৪২তম অবস্থানেই রয়েছে।
২০১৫ সালে মানব উন্নয়নে বাংলাদেশ শূণ্য দশমিক ৫৭০ পয়েন্ট পেয়েছে, যা আগের বছর ছিল শূণ্য দশমিক ৫৬৭ পয়েন্ট। এক পয়েন্টকে ভিত্তি ধরে কোনো তার যত কাছাকাছি যায়, মানব উন্নয়নে তার ততটা উন্নতি হয়েছে বলে ধরা হয়।
রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, মাথাপিছু আয় বাদে অন্যান্য সূচকে বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে ভাল করেছে। যেমন- স্বল্প ব্যয়ে খাবার স্যালাইন ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা তৈরিতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে স্বল্প ব্যয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশের সফলতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ‘রোল মডেল’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, মানব উন্নয়ন সূচকে ৭৩তম হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা। এছাড়া ভারত ১৩০তম ও ভুটান ১৩২তম হয়ে বালাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে; আর নেপাল ১৪৫তম, পাকিস্তান ১৪৭তম ও মিয়ানমার ১৪৮তম হয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক সমন্বয়ক পলিন তামাসিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
‘মানব উন্নয়নের জন্য কর্ম’ শিরোনামের এই প্রতিবেদন তুলে ধরে ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের পরিচালক সেলিম জাহান বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষমতায়ন হয়েছে। এখন গ্রামের একজন নারী উদ্যোক্তাও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, শূণ্য দশমিক ৯৪৪ পয়েন্ট নিয়ে মানব উন্নয়ন সূচকের শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে; তারপর যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাস্ট্র, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের অবস্থান।
