মন্ত্রী-এমপিসহ ক্ষমতাসীনদের আচরণবিধি মেনে চলতে অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন কমিশন বলছে সরকার, ক্ষমতাসীন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের সহযোগিতা ছাড়া কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এদিকে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও আইন বর্হিভূতভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করায় সাতক্ষীরার কলারোয়ার রিটার্নিং অফিসারকে বরখাস্ত করেছে ইসি। ভোটের মাঠে লড়াইয়ে থাকা ১৯৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, যারা সরকারে আছেন, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল হবেন এটাই স্বাভাবিক। এজন্য যিনি সরকার প্রধান আছেন, তাকে বলব আচরণবিধি অনুসরণে সংশ্লিষ্টদের দেখার জন্য।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনাররা ক্ষমতাসীনদের আচরণবিধি লংঘন এবং মাঠ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় হিসাবে চিহ্নিত করেছে। একইসঙ্গে মন্ত্রী-এমপিদের আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিশন। সম্প্রতি ইসির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি চিহ্নিতের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন একাধিক নির্বাচন কমিশনার। দায়িত্বে অবহেলাকারী রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি এড়িয়ে গেলে, সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আগামীতেও নেয়া হবে।
কলারোয়ার রিটার্নিং অফিসার সাসপেন্ড
নির্বাচনে অনিয়মের দায়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া মো. আবুল হোসেনকে এবার সাময়িক বরখাস্ত করলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। মো. আবুল হোসেন সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন অফিসার ছিলেন। দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের পর তাকে খুলনার অতিরিক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়। আবুল হোসেনের স্থলে মাগুরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমদ আলীকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
১৯৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে নামছে ইসি
ভোটের মাঠে লড়াইয়ে থাকা ১৯৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরমধ্যে বেশ কয়েজন মেয়র প্রার্থীসহ সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে অবৈধ ঘোষণা করা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে এরা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। ইতিমধ্যে দু’ধরনের কাউন্সিলর পদের জন্য ব্যালট পেপার ছাপার কাজ শেষ করা হয়েছে। মেয়র প্রার্থীদের জন্য ব্যালট পেপার ছাপার কাজও প্রায় শেষ মুহূর্তে। এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকলে সময়মতো ব্যালট পেপার কেন্দ্রে সরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
দুই মেয়র প্রার্থীকে খুঁজছে ইসি
কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.শাজাহান মিয়া ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারকে খুঁজছে ইসি। আদালতের আদেশে মনোনয়ন গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হলেও তাদের দুইজনকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। আদালত অবমাননার দায় এড়াতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অভিযোগ দিয়ে লাপাত্তা বিএনপি প্রার্থী
নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও বিএনপি মনোনয়ন প্রার্থী গোলাম মোস্তফার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির সামনে কেউ হাজির হননি। গতকাল তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গোলাম মোস্তফা তার অভিযোগে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তাকে জোরপূর্বক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করেছে। অভিযোগপত্র কমিশনে নিয়ে আসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন। অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় ইসি। কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহসীনুল হক ঘটনার তদন্তে চাটখিল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরে শনিবার শুনানির আয়োজন করেন। এতে প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন না।
