এদেশের কয়েক প্রজন্মের হাত ধরে দৈনিক ইত্তেফাক যেমন সঠিক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে সকলকে, ঠিক একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের পথগুলোও দেখিয়েছে ইত্তেফাক। এদেশের চলচ্চিত্র, থিয়েটার, কিংবা সঙ্গীতাঙ্গনে অগণিত নবাগত তারকা কিংবা প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সঠিক মূল্যায়ন করেছে দৈনিক ইত্তেফাক। এর পাশাপাশি অদৃশ্য এক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে একাধিক শোবিজ তারকাদের জীবনে, যারা এই প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে। তাদের সেই নস্টালজিক অনুপ্রেরণার ছোটগল্পই তুলে ধরা হলো ইত্তেফাকের ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে।
শাকিব খান
চলচ্চিত্রে আসার আগে থেকে ইত্তেফাকের সাথে সম্পর্ক। যেহেতু চলচ্চিত্রের প্রতি একটা ঝোক আগে থেকেই ছিল আমার। ইত্তেফাকে সবসময় চলচ্চিত্রের আপডেট পেতাম। তাই বাবাকে সবসময় ইত্তেফাক নিয়ে আসতে বলতাম। কারণ চলচ্চিত্রের খবরাখবর রাখার জন্য ইত্তেফাক ছিল আমার প্রথম পছন্দ। আমি চলচ্চিত্রে আসার পর তো অপেক্ষায় ছিলাম কখন এই পত্রিকার কোনো বিনোদন সাংবাদিক আমার কাছে আসবে। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ইত্তেফাকের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। তারকা হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়েছে ইত্তেফাক। জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ইত্তেফাক পরিবারের সবাইকে।
মৌসুমী
শুভ জন্মদিন ইত্তেফাক। অনেক বছরের সম্পর্ক এই পরিবারের সাথে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রটির মুক্তির খবরটি আমি প্রথম পড়ি ইত্তেফাকে। ছোটবেলা বাবাকে দেখতাম ইত্তেফাক পড়তে। বাবার মুখ থেকেই শোনা যুদ্ধের সময় ইত্তেফাক ছিল আমাদের অন্যতম ভরসা। ইত্তেফাকের একটি বিষয় আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ, বস্তুনিষ্ঠ খবরের ক্ষেত্রে তারা বরাবরই আপোসহীন।
মোশাররফ করিম
ইত্তেফাক পড়তে গ্রামের হাটে চলে যেতাম। কারণ গ্রামেই আমার ছেলেবেলার অনেকটা সময় কাটে। সেই সময় তো পত্রিকা পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যেত। বেশিরভাগ সময় হাট পর্যন্তই পত্রিকা পাওয়া যেত। তাই প্রতিদিনই হাটে গিয়ে পত্রিকা পড়তে হতো। ইত্তেফাক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছে। এখন তো অনেক গণমাধ্যম। তবুও কোনো খবর পড়ে দ্বিধায় পড়ে গেলে ইত্তেফাক খুলে দেখি। অনেকগুলো বছর পেরিয়ে এলো এই পত্রিকাটি। যার সাথে আমারও অনেক খণ্ড খণ্ড স্মৃতি জড়িত আছে। শুভকামনা ইত্তেফাক পরিবারের প্রতি। শুভ জন্মদিন দৈনিক ইত্তেফাক।
অপু বিশ্বাস
আমি তো নিজেও ইত্তেফাক পরিবারের একজন। খুব ভালো লাগে একসময় যে পত্রিকায় নায়িকাদের বড় বড় ছবি দেখেছি সেই পত্রিকার পাতায় আমারও আজ ছবি ছাপা হয়। চলচ্চিত্রে আসার আগের একটি ঘটনা, ইত্তেফাকের বিনোদন পাতায় শাবনূর আপুর একটি ছবি দেখিয়ে বলেছিলাম, এই পাতায় এভাবে একদিন আমারও ছবি দেখবি। আসলেই খবরের মাধ্যমে স্বপ্ন তৈরি করেছে এই পত্রিকাটি। বিনোদন প্রতিদিনের প্রতি চিত্রনায়িকা হিসেবেই শুধু নয়, একজন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট হিসেবে অনেক কৃতজ্ঞ। কারণ তারা অনেক প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে আমাদের চলচ্চিত্রের ভালো-মন্দের কথা আজও তুলে ধরে। জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীরাও যেন ইত্তেফাকের এই দিনটিতে শুভকামনা জানাতে পারে এই কামনা করি।
বাপ্পা মজুমদার
জন্মদিনের শুভেচ্ছা ইত্তেফাক পরিবারের সকলকে। আসলে ইত্তেফাকের সাথে সম্পর্কটা তো অনেকদিনের। বাবাকে দেখতাম ইত্তেফাক পড়তেন। আমিও বিনোদন পাতাটার নিয়মিত পাঠক ছিলাম তখন। একটি বিষয় খুব ভালো লাগে, দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি খুবই যত্নশীল এই পত্রিকাটি। দেশের শিল্পীদের ইত্তেফাক খুব ভালো সহযোগিতা করে। আমাদের গণমাধ্যমগুলো আমাদের সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট মানুষদের জন্য প্রতিফলনের মতো। গণমাধ্যমগুলোর দায়িত্বের জায়গাও সেটা। আমি মনে করি ইত্তেফাক সেই জায়গায় সঠিকভাবে কাজ করছে। আশা করি ইত্তেফাকের কাছ থেকে আরও ভালো কিছু পাবো। আরও অনেক বছর যেন ইত্তেফাক পড়তে পারি এই আশা করছি।
নিপুণ
ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে যে পত্রিকার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট পেয়েছি সেটির নাম দৈনিক ইত্তেফাক। আজ এই পত্রিকাটির জন্মদিন। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেকেও এই পরিবারের একজন মনে করি। বিনোদন প্রতিদিন আমার কাছে এখনকার অন্যতম একটি সাংস্কৃতিক পাতা মনে হয়। কারণ সঠিক এবং এক্সক্লুসিভ খবরগুলো ইত্তেফাক থেকেই পাই। শুভ জন্মদিন ইত্তেফাক। সাফল্যের ধারা বয়ে চলুক শত শত বছর।
IMG0
বিদ্যা সিনহা মীম
ইত্তেফাক পরিবারের সবাইকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। এই পত্রিকাটি নিয়ে আমার গর্ব হয়, কারণ এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের এই একটি পত্রিকাই সফলভাবে টিকে রয়েছে। একজন নতুন হিসেবে লাক্স চ্যানেল আই যেমন আমাকে একটি প্লাটফর্ম দিয়েছে, আমি মনে করি পরবর্তীতে ইত্তেফাক আমাকে আরও একটি প্লাটফর্ম দিয়েছে। আশা করি নতুন বছরে ইত্তেফাককে আমরা আরও নতুন করে পাবো। আমাদের পাশে ইত্তেফাক আজীবন ছায়ার মতো থাকবে। আমাদের ভালো-মন্দ নিয়ে লিখবে।
সজল
শুভ জন্মদিন ইত্তেফাক। ইত্তেফাককে নিয়ে গল্প অনেক। বাবার যুগ থেকে আমার যুগ। বিশ্বাস করি আমার পরবর্তী যুগও ইত্তেফাক নিয়ে কথা বলবে। যাই হোক, ইত্তেফাককে নিয়ে বলতে ভালো লাগে কারণ অন্য অনেক পত্রিকা যেখানে বিদেশি তারকাদের বড় বড় ছবি ছাপিয়ে নিউজ করে সেখানে ইত্তেফাক বরাবরই এই বিষয়ে প্রশংসার দাবি রাখে। আর আমাদের এখনকার কাজ নিয়ে সমালোচনা খুব একটা দেখি না। পত্রিকা যদি সমালোচনা না করে তবে আমরা বুঝবো কিভাবে আমাদের অবস্থাটা কি। ইত্তেফাকে আমি এ রকম প্রতিবেদন অনেকগুলো পড়েছি। কৃতজ্ঞ ইত্তেফাকের প্রতি।
আনিকা কবির শখ
অনেক শুভকামনা ইত্তেফাক পরিবার। মডেলিংয়ের প্রতি আমার ছোটবেলা থেকেই দুর্বলতা। তাই পত্রিকায় বিনোদন ও ফ্যাশন পাতায় আমার নিয়মিত নজর থাকতো। সেখান থেকেই ইত্তেফাকের সাথে আমার সখ্য শুরু। মিডিয়াতে আসার নবাগতা হিসেবে ইত্তেফাক আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। দাদুর কাছে শুনেছি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তারা গ্রাম পেরিয়ে শহরে আসতেন ইত্তেফাক পড়তে। সেই পত্রিকায় এখন আমার খবর দেখে গর্ব হয়। যুগ যুগ এই সাফল্যের ধারা বয়ে যাক। ইত্তেফাকের জন্য অনেক শুভকামনা।
