খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চায় আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ২৩:৩০
মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এ দাবি জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খালেদা জিয়া যে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন তা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে বিএনপি নেত্রীর সংশয় প্রকাশ ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তার এ ধরনের উক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, উনি কোনোদিনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন না। মুক্তিযুদ্ধের সময় উনি পাকিস্তানি সৈন্যদের আতিথেয়তায় পাকিস্তান ক্যান্টনমেন্টে বসবাস করেছেন। আজ যদি রাজাকার-আলবদর-আল শামস যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের সহায়তা করার জন্য যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়, তাহলে জাতি মনে করে ওই সময় পাকিস্তানের দোসর হিসেবে খালেদা জিয়াও চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।
 
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গত সোমবার মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত শহীদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, এটা নিয়েও বিতর্ক আছে।’ তাঁর এই বক্তব্যের জবাব দিতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘জাতি মনে করে পাকিস্তানি দোসর হিসেবে খালেদা জিয়া চিহ্নিত হয়ে থাকবেন। মনেপ্রাণে চেতনায় পাকিস্তানি খালেদা জিয়াকে সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, এই কটাক্ষ করার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের রোষানল থেকে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতা-কর্মীরা যে অক্ষত আছেন; গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের, আওয়ামী লীগের নয়। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি করছি খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর আঘাত করেছেন, এ জন্য তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচার করা হোক।
 

পৌর নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের উপর হামলার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে হানিফ বলেন, বিএনপি’র উপর আওয়ামী লীগের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই। বরং বিএনপি নেত্রী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশের মুক্তি পাগল মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। ‘নয়টার মধ্যে নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে’ মর্মে সম্প্রতি জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এরশাদের বয়স কত? ৮৪-৮৫। উনি বৃদ্ধ। স্বাভাবিক চিন্তা-চেতনা থাকা কঠিন। হেঁটে-চলে বেড়াচ্ছেন এ জন্য তো আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।’ সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আব্দুল মান্নান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।