বেতন স্কেলে আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ২৩:৪২
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত বেতন স্কেলে আর কোন পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তিনি বলেন, যে যা-ই বলুক, আর যে দাবিই করুক না কেন, বেতন স্কেল পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই। গতকাল সচিবালয়ে অনলাইনে নিজের আয়কর রিটার্ন দাখিল শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আলাপকালে শিক্ষক, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের চলমান অসন্তোষ ও সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। এ সময় তিনি চলমান বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে উল্লেখ করে এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) কিছুটা কাটছাঁট করতে হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন।
 
তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি একেবারেই অজ্ঞতাপ্রসূত। বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার আগে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে  আলোচনা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অধ্যাপক বলে কোনো পদ নেই। তাদের জন্য আলাদা কোনো স্কেলও নেই। এটা একটা সম্মান। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের এ সম্মান দেয়া হয়। এজন্য আগেও ৪০ হাজার টাকা সম্মানি দেয়া হতো, এখনো এটা আগের মতোই আছে। এ সময় ফের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমপিওভুক্তি অত্যন্ত বাজে ব্যবস্থা। আমি বরাবরই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিকরণের বিরোধিতা করে আসছি। এ ব্যবস্থা স্কুলের স্বার্থ দেখে না, এমনকি শিক্ষার্থীদের স্বার্থও দেখে না। শুধু শিক্ষকদের স্বার্থ দেখে। এজন্য একটি কমিটি করে দিয়েছি। কমিটি যে সুপারিশ করবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
এদিকে বেতন কাঠামোয় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের পদে অবনমনের অভিযোগে গত মঙ্গলবারও বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তারা। এ আন্দোলনকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের দাবি-দাওয়ায় যৌক্তিক কিছু দেখছি না।  আমি অবশ্য তাদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল দেব বলে আশ্বাস দিয়েছিলাম। কিন্তু যে বেতন স্কেল দেয়া হয়েছে, এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
 
অর্থমন্ত্রীর আয়কর ৫৬ হাজার টাকা
 

গতকাল অর্থমন্ত্রীর দাখিল করা আয়কর রিটার্নে তিনি ৫৫ হাজার ৮৭০ টাকা কর দিয়েছেন। এতে দেখা যায়, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের বছরের চেয়ে সম্পদ বেড়েছে ৪ লাখ টাকা। গতবছর তার আয় হয়েছে ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে করযোগ্য আয়ের পরিমাণ ১০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এতে তার আয়করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৮৭০ টাকা। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি নিজেই এ তথ্য দেন।