কর্ণফুলীর মোহনায় হবে ‘বিজয় তরঙ্গ’ জাদুঘর

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:৪০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে শহীদ নৌ-কমান্ডারদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনায় ‘বিজয় তরঙ্গ’ নামের একটি জাদুঘর তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ নেভাল একাডেমী প্যারেড গ্রাউন্ডে একাডেমীর মিডশিপম্যান ২০১৪/এ এবং ডিইও ২০১৫/বি ব্যাচের কোর্স সমাপনী কুচকাওয়াজ প্রেসিডেন্ট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে একযোগে সকল নৌ-ঘাঁটি চালু করেন এবং প্রথম বানৌজা ঈশা খানকে জাতীয় পতাকা প্রদান করে নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রার স্বীকৃতি দেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর তার সরকার সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তিন বাহিনীর উন্নয়নে সরকার ফোর্সেস গোল-২০৩০ অনুযায়ী কাজ করছে।
 
শেখ হাসিনা জানান, নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করতে এই বাহিনীতে মেরিটাইম হেলিকপ্টার ও পেট্রোল এয়ারক্রাফট সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ দুইটি সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নৌবাহিনী একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হবে। ইতিমধ্যে দুইটি সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও দুইটি মিসাইল ফ্রিগেট, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি ফ্রিগেট, দুইটি মিসাইল কর্ভেটশিপ এবং খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত ৫টি পেট্রোল ক্রাফট নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। চীনের তৈরি দুইটি কর্ভেটশিপ ‘প্রত্যয়’ ও ‘স্বাধীনতা’ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি ফ্রিগেট ‘সমুদ্র অভিযান’ আগামী মাসে নৌ-বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে। ফলে বিশাল সমুদ্র এলাকায় নৌবাহিনীর টহল ও নজরদারির সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।
 
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে সমুদ্রের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিপুল সম্পদ আহরণে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিশাল এই সমুদ্র এলাকায় মাছ, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদ রক্ষা করা এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নৌবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব।
 
গতকাল সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে নৌ-বাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব এবং চট্টগ্রাম নেভাল এরিয়া কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম আখতার হাবিব তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সিনিয়র সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নতুন কমিশন লাভ করা মিডশিপম্যানদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
 
প্যারেড অনুষ্ঠানে মিডশিপম্যানদের ব্যাচ ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট পাসিং আউটে অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী একাডেমীতে অসামান্য দক্ষতা প্রদর্শনকারী সেরা মিডশিপম্যানদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
 
মিডশিপম্যান ফাহিম উদ্দিন সাকিব সেরা মিডশিপম্যান নির্বাচিত হন এবং তিনি ‘সোর্ড অব অনার’ গ্রহণ করেন। একাডেমীতে সেরা ফলাফলের জন্য এ্যাক্টিং সাব-লেফটেন্যান্ট এম রেহানুজ্জামান শহীদ মোয়াজ্জেম পদক লাভ করেন। পেশাগত ও শিক্ষাগত বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনের জন্য মিডশিপম্যান জাহিদ হোসেন কবির বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক এবং মিডশিপম্যান এম রেজাউল ইসলাম নেভাল চিফ স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।
 
নতুন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ও বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে হবে। আপনাদের মতো তরুণ অফিসাররা আমাদের ভবিষ্যত্ উন্নয়ন যাত্রার অংশীদার। তাই আপনাদের ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে নৌবাহিনীর এবং দেশের ভাবমূর্তি ও ঐতিহ্য ম্লান হয়। যে কোনো প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে হবে।
 
এদিকে গতকাল দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালনাধীন চিটাগং ড্রাইডক ইয়ার্ডকে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে ড্রাইডক ইয়ার্ড থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন তিনি।