প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন, কেবলমাত্র কতিপয় ধর্মান্ধ পথভ্রষ্ট উগ্রবাদির আচরণে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে ইসলাম ধর্ম ও মসুলমানদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দীন চিশতী (র.) এর মাযারে অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এর দু’দিনব্যাপী মাহফিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমা অনেকের কাছেই ইসলামের প্রকৃত পরিচয় অজানা। কেননা ইসলাম তাদের ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক কোন উপাদান নয়। এ অজ্ঞতার পাশাপাশি যখন কিছু কিছু মুসলিমের ইসলাম পরিপন্থী আচরণ তাদের সামনে প্রকাশ পায় এবং পশ্চিমা লোকেরা তার বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তাতে ইসলাম সম্পর্কে তাদের ভুল বোঝার মাত্রা আরো বেড়ে যায়।
এ সময় সুপ্রিম কোর্ট মাযার ও মসজিদ প্রশাসন কমিটির সদস্য হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন, বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, বিচারপতি ফরিদ আহমদ শিবলী, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএম আমিনউদ্দিন, হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট মাযার মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুস সালাম।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে গুটিকয়েক লোক ধর্মের ব্যাপারে ভুল ব্যাখ্যা দেয়ায় ইসলামের বিরুদ্ধে মানুষের একটি ভুল ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এখানে অনেক পন্ডিত ব্যক্তি রয়েছেন যারা সমাজ নিয়ে চিন্তাভাবনা এবং ধর্মের উপর আলোকপাত করেন তাদেরকে এখনই ইসলামের অপব্যাখ্যাকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যাতে অপব্যাখ্যাকারীদের হাত থেকে ইসলাম রক্ষা পায়।
তিনি বলেন, ধর্ম মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথ দেখায়। আবার ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দ্বারা মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়। এমনকি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং জীবনহানির অনেক ঘটনা পৃথিবীতে ঘটেছে ধর্মকে কেন্দ্র করেই। তিনি বলেন, আল্লাহর নবীগণ যেমনিভাবে মানুষকে নৈতিকভাবে সংশোধন করেছেন, তেমনিভাবে আমাদেরকে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। আমাদের এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস, গোত্র, বর্ণ, ধনী-দরিদ্র সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবে। আজকের এই বিশেষ দিনে সবাইকে আহবান জানাই আসুন আমরা সকলে মিলে দেশ ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান এবং এর আর্বিভাব ও বিকাশ ঘটেছে মানবতার সার্বিক কল্যাণে। ইসলাম সমান গুরুত্ব আরোপ করে বস্তুগত, ইহজাগতিক ও পরলৌকিক বিষয়ের উপর। ইসলামের সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় এবং এর কর্মক্ষেত্র এত বিস্তৃত বলেই অতীতের মসুলমানদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিলো আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন তথা শিল্প, সাহিত্য, দর্শন ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এক গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য রচনার।
