ঘোমটা খুলছেন খালেদা : ইনু

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ২২:২৫
 
মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়া পাকিস্তানের প্রকাশ্য ‘দালালে’ পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
 
মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বিএনপি নেত্রীর বিভিন্ন মন্তব্য ‘ন্যক্কারজনক’ এবং এসবের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশিদের মনে পাকিস্তানের ‘বিষ’ ঢালছেন বলেও মনে করেন জাসদ সভাপতি।
 
মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ সব বলেন তথ্যমন্ত্রী।
 
 
এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার ‘প্রকৃত পরিচয়’ উঠে আসছে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া আসলে ক্রমান্বয়ে উনার আসল চেহারা প্রকাশ করছেন, ক্রমান্বয়ে ঘোমটাটা ফেলে দিচ্ছেন। পাকিস্তানপ্রীতি,  রাজাকারপ্রীতি, যুদ্ধাপরাধীপ্রীতি রাখঢাক না রেখেই প্রকাশ করছেন। উনি খুব খোলামেলা হয়ে গেছেন।’
 
গত সোমবার রাজধানীতে এক সভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয়, এতো লাখ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লাখ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।’
 
গত মাসে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর উদ্বেগ জানায় পাকিস্তান। এ নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যা চালানোর কথা অস্বীকার করে ইসলামাবাদ।
 
এর কয়েক সপ্তাহের মাথায় মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি নেত্রী।
 
ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মহিমা অস্বীকার করে পাকিস্তানিদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন মন্তব্য করে হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানিদের মতই বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধা ও গণহত্যা নিয়ে মিথ্যাচার করছেন অথবা এসব বিষয়কে বিতর্কিত করতে ভুল তথ্য দিচ্ছেন।
 
‘একদিকে উনি গণতন্ত্রের পথ পরিহার করেছেন, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছেন। উনি পাকিস্তানিদের প্রকাশ্য দালালে পরিণত হয়েছেন।’
 
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান গোপনে তার গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা, নাশকতা, অন্তর্ঘাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত।এর প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে, এটা তাদের জানানোও হয়েছে, এরপরেও তারা নিবৃত হয়নি। পাকিস্তান দূতাবাসটা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী লালনকেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে, এটা কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও কূটনৈতিক নিয়ম বহির্ভুত।’ বিডিনিউজ।