পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমাদের জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতার সুফল দৃশ্যমান। আজ দেশে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, তথ্য প্রযুক্তিসহ নানা দিকে যে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে তা পরাধীনতার সময়ে চিন্তা করাও যায়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তথা সামাজিক নেতৃত্ব যদি আরও সক্রিয় ও সম্মিলিতভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করেন তাহলে আমরা বিশ্বে একটি উন্নত দেশের মর্যাদা কাঙ্ক্ষিত সময়ের আগেই অর্জন করতে সক্ষম হবো।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ৩০ বছর ধরে আমরা এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছি। এ কাজের শুরুতে মানুষ বিদ্যুৎ চাহিদা সম্পর্কে সচেতন ছিল না, যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নৌ-চলাচল নির্ভর, ন্যূনতম স্বাস্থ্য সেবা ছিল অপ্রতুল। আজ মানুষ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চায়, সরকারি সেবাসমূহ গ্রহণের জন্য সড়কপথে জেলা-উপজেলায় অনায়াসে যাতায়াত করে। ইউনিয়ন পর্যায়েও সেবাখাতসমূহ বিকেন্দ্রীভূত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মানুষের দোরগোড়ায় আজ স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দিচ্ছে। ২০২১ সালের আগেই মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী। তাই আমাদের সবাইকে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে সকলের দোয়া চাওয়া কর্তব্য।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে লবণাক্ততা বেড়ে চলেছে। যে কারণে খাবার পানির চাহিদা মিটানো দুরূহ হয়ে পড়বে। তাই সরকার এই পরিবর্তনের মোকাবেলায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ নানা অভিযোজন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দক্ষিণাঞ্চলে বেড়িবাঁধ, স্লুইস গেট নির্মাণসহ ব্যাপক বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এভাবে যদি উন্নয়ন অব্যাহত থাকে, দেশে নৈরাজ্য না থাকে, সরকার ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে তা হলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে মানুষ তার জন্য অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণের জন্য দাবি তুলবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের মুখাপেক্ষী উন্নয়নের জন্য। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ও স্থানীয় অংশগ্রহণ থাকলে উন্নয়ন আরও সংহত হয়।
কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আসে যার সদ্ব্যবহার হয় না, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামোগত কাজগুলো দীর্ঘস্থায়ীত্ব পায় না। জিআর-টিআর-কাবিটা, কর্ম সৃজন প্রকল্প দিয়ে সাময়িক উন্নয়ন ঘটলেও তার সুফল জনগণ পায় না। এ ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ প্রভৃতি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কর্মঠ, যোগ্য, শক্তিশালী হতে হবে। ভান্ডারিয়ায় নতুন পৌরসভা চালু যেমন সুখের খবর তেমনি দায়িত্বের বিষয়। পৌরবাসী যখন দায়িত্বশীল হবেন তখন সবাই সুখ-শান্তির মাঝে বসবাস করতে পারবেন।
মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নবগঠিত ভান্ডারিয়ার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ভান্ডারিয়া পৌরসভার প্রশাসক মোঃ রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী, পুলিশ সুপার মোঃ ওয়ালিদ হোসেন, আওয়ামী লীগের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার প্রমুখ। উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল দুপুরে ভান্ডারিয়ার মালিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান টিপুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, আক্তারুজ্জামান শাহিন, আবুবকর সিদ্দিক প্রমুখ।
এ সময় মঞ্চে ছিলেন ভান্ডারিয়ার ইউএনও মোঃ রুহুল কুদ্দুস, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারেক প্রমুখ। সকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পূর্ব ভান্ডারিয়ায় দু’টি ব্রিজ ও একটি সাইক্লোন শেল্টারের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে জেপি’র উপজেলা আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, মন্ত্রীর দৌহিত্র রায়হান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী রাতে ভান্ডারিয়ায় জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ভান্ডারিয়া পৌরসভা বন্দরের বিভিন্ন স্থানে সেনিটারি ল্যাট্রিন ও গভীর নলকূপ স্থাপন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পুরাতন লঞ্চ ঘাটে পাকা ঘাট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে নবগঠিত ভান্ডারিয়া পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে পৌরসভার সহায়ক কমিটি, ভান্ডারিয়া বন্দর ব্যবসায়ী ও সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সভায় ভান্ডারিয়া বাজারের পণ্যসামগ্রী ফরমালিন মুক্ত রাখতে জনসচেতনতামূলক আলোচনা হয়।
সভায় ভাণ্ডারিয়া পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক একেএম শামিমুল হক সিদ্দিকী, পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেন,পিরোজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফাইজুর রশিদ খশরু জোমাদ্দার, ভাণ্ডারিয়া সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশিদ তারেক, জেপি নেতা ও পৌর সহায়তা কমিটির সদস্য আবুল কালাম পোদ্দার, মো. ইউসুফ আলী আকন ,গোলাম কবির নান্টু প্রমুখ।
পরে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিতিতে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ভান্ডারিয়া পৌর এলাকার গৌরীপুর ইউনিয়নের সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
