শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় একাত্বরে নিহতের সংখ্যা জরিপ করে দেখতে বলেছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দেয়া বিএনপির দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমর্থনে গয়েশ্বর আলোচনা সভায় বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে। উনি কমও বলেননি, বেশিও বলেননি। এই বিতর্কের কথাটা সংসদেও উঠেছিল ১৯৯১ সালে। সংসদ সদস্য প্রয়াত কর্নেল আকবর হোসেন প্রশ্নটা উত্থাপন করেছিলেন।”
গয়েশ্বর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি আপনাদের বলব, মতামত জরিপ করেন। একাত্তর সালে অনেকে মারা গেছেন। শুধু পাকিস্তানিদের গুলিতে নয়, সাধারণ মৃত্যুও হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম থেকে সেসব মৃত্যুর খোঁজ নিন। প্রয়োজনে মেসেজ করে দিতে বলুন। পরিসংখ্যানটা চলে আসবে। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো দরকার নেই।”
সভায় গয়েশ্বর বলেন, “এখন আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। ইচ্ছা করলে সাত দিনের মধ্যে পরিসংখ্যানটা বের করা যায়। আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীদের বলব, প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মা্ধ্যমে এর একটা জরিপ করে ফেলেন। প্রকৃত ইতিহাসটা চলে আসুক।”
উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।”
তার বক্তব্যের পর সারা দেশে সব মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। খালেদা জিয়াকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এক আইনজীবী উকিল নোটিস পাঠান এবং নড়াইলে খালেদার নামে একটি মামলাও হয়।
