প্রবাসীদের সন্তানদের ভর্তিতে কোটা রাখার প্রস্তাব

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ২০:১২
 
প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের দেশের স্কুল-কলেজে ভর্তির জন্য কোটা রাখতে ভর্তি নীতিমালায় সংশোধন আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়।
 
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আফছারুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য মেধাভিত্তিক  কোটা রাখতে হলে বিদ্যমান ভর্তি-নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। কমিটি মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আনার জন্য বলেছে। প্রস্তাব এলে কমিটি সেটি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ করবে।’ তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের মধ্যে যারা মেধাবী তাদের জন্য এই কোটা রাখার ব্যাপারে মতামত এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য বলেছি।
 
কমিটির সভাপতি আরও বলেন, ‘প্রবাসী বলতে কাদের বোঝানো হবে সেটিও নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে। কমিটি প্রাথমিকভাবে দেশে রেমিটেন্স পাঠানো কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে বলেছে। রবিবারের বৈঠকে সংসদীয় কমিটি জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যক্রম অনুযায়ী ‘বাৎসরিক পাঠদান রুটিন’ প্রণয়নেরও সুপারিশ করেছে। আগামী তিন মাসের ‘বাৎসরিক পাঠদান রুটিন’ কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
 
এ বিষয়ে কমিটি সভাপতি আফছারুল আমীন বলেন, ‘এনসিটিবি সিলেবাস তৈরি করে দিচ্ছে। কিন্তু সেই সিলেবাস অনুযায়ী কীভাবে পাঠদান হচ্ছে সেটি সুপারভিশনে থাকা দরকার।’ এনসিটিবির হিসাব মতে বছরে ১৮৪ দিন ক্লাস হয়। ওই ১৮৪ দিন হিসাব করেই তারা সিলেবাস দেয়। কমিটি বলেছে ওই ১৮৪ দিনের কোন দিন, কোন শিক্ষক, কোন পিরিয়ডে, কোন বিষয়ের, কোন অধ্যায় পড়াবেন সেটির চার্ট তৈরি করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, ‘মুখে মুখেতো সিলেবাস শেষ করে দেওয়া যায়। কিন্তু কার্যকর অর্থে সেটি শেষ হচ্ছে কিনা এটা জানা দরকার।’ ওই ‘চার্ট’ অভিভাবকদের কাছে সরবরাহ করার জন্যও সুপারিশ করেছে কমিটি।
 
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে কমিটির সদস্য- শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, মো. ছলিম উদ্দীন তরফদার, গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ও সেলিনা আক্তার বানু অংশ নেন।