একসময় দেশীয় চলচ্চিত্রের কমেডি মানেই টেলি সামাদ। বাংলা চলচ্চিত্রে কমেডি এক নতুন আর্টে দাঁড় করিয়েছেন এই মানুষটি। বিগত দুই বছর থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন অনেকটাই অবসর দিন কাটাচ্ছেন তিনি। কেমন আছেন তিনি? এ প্রজন্মের নির্মাতারা কি তার খোঁজ নেন?...সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মেহেদী সোহেল। ছবি তুলেছেন মারুফ রহমান
কেমন আছেন?
এখন কাজের কিছুটা বিরতিতে আছি। গত বছর আমেরিকায় গিয়ে দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আর নতুন কোনো সিনেমার কাজ করতে পারিনি। এখন যদিও শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক, তবুও আগের মতো এখন আর কাজ করতে পারছি না। তাই চলচ্চিত্রে কাজ করার কথা এখন ভাবছি না।
এই বিরতিতে ছোটপর্দায় কি দেখা যাবে আপনাকে?
এরইমধ্যে ছোটপর্দায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি। আর নাটকের কাজেরও প্রস্তাব পাচ্ছি। যেহেতু আমি অভিনয়ের মানুষ, তাই অভিনয় থেকে দূরে থাকাও সম্ভব নয়। ভাবছি আবার টিভি নাটকে সরব হবো।
প্রায় ছয় দশক চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত আপনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এখনকার চলচ্চিত্রের অবস্থা সম্পর্কে কী বলবেন?
বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা তো খুবই খারাপ। এখনকার শিল্পীদের অভিনয়ের প্রতি আবেগের খুব অভাব রয়েছে। গানগুলো কেমন সাদামাঠা। এখনকার চলচ্চিত্রে গল্পের গাঁথুনি অত্যন্ত দুর্বল। আর এ কারণেই চলচ্চিত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতির দিকে যাচ্ছে। এখন যারা অভিনয়ে আসছে তাদের বেশিরভাগই একটি দু’টি চলচ্চিত্র করেই হারিয়ে যাচ্ছে। তারা অত্যন্ত স্বল্প সময় স্থায়ী হচ্ছে। যে কারণে বেশিরভাগ শিল্পী পরিণত হতে পারছে না।
নতুনদের মাঝে সম্ভাবনা কেমন খুঁজে পান?
নতুনদের মাঝেই তো সব সম্ভাবনা। অনেকে ভালো কাজ করছে। হয়তো পারিপার্শিক সহযোগিতার জন্য প্লাটফর্ম পাচ্ছে না। তবে নতুনদের একটি বিষয় খুব খারাপ লাগে, তারা খুব তাড়াতাড়ি অনেক বেশি প্রাপ্তির আশা করে। আর এই অতি আকাঙ্ক্ষাই তাদের নিজের ক্ষতি করছে। আবার অন্যদিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, যে সকল ব্যক্তিরা চলচ্চিত্রের জন্য মেধা, শ্রম, আবেগ, সময় ও অর্থ ব্যয় করতেন তাদের সংখ্যা অনেকটা শূন্যের কাছাকাছি চলে আসছে। আর নতুন যারা আসছে তাদের অতি তাড়াহুড়োর কারণে সফলতার হারও অনেক কম।
আমাদের কমেডিতে এখন আর উল্লেখযোগ্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ কী মনে করেন?
নিজেদের কদরটা নিজেদেরই বুঝতে হয়। আমাদের পাশের দেশেসহ বিশ্বের অনেক দেশের চলচ্চিত্রে কমেডি একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। আমাদের চলচ্চিত্রের কমেডি এখন অনেক সস্তা হয়ে গেছে। দেশে অনেক ভালো কমেডি অভিনেতা আছেন, তাদের যদি সঠিক মর্যাদা দিয়ে চলচ্চিত্রে আনা হয় তবে কমেডির দিক থেকে ভালো একটা অবস্থানে আমরা যেতে পারবো।
