বাংলাদেশে সম্প্রতি জঙ্গি তত্পরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট পতি আব্দুল হামিদ বলেছেন, এর পেছনে হয়তো আন্তর্জাতিকভাবে ইন্ধন থাকতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গভবনে বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে রাষ্ট পতি বলেন, মসজিদে আক্রমণ কিংবা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হুমকি এবং হামলার বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এটা আসলে আমাদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত, কোনভাবে এটা বাংলাদেশে হতে পারে না। কারণ আমরা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই কিন্তু এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম এবং এভাবেই তো দেশ চলছিল, কিন্তু হঠাত্ করে এসব ঘটনা দুঃখজনক।
বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম প ধান দেশে এক ধরনের অস্থিরতা চলার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট পতি বলেন, ‘সেসব দেশের ঘটনা প্রবাহের আঁঁচ হয়তো বাংলাদেশেও পড়ছে। কারণ আপনি জানেন, বেশ কিছু কাল যাবতই আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরাকে এসব ঘটনা ঘটছে। আমার মনে হয় ওখানের ঘটনা প্রবাহের পাশাপাশি, মানে আন্তর্জাতিকভাবেও এর পেছনে কিছু ইন্ধন দেয়া- এগুলো হয়তো থাকতে পারে।’
বাংলাদেশে সম্প্রতি আশুরার সমাবেশ কিংবা কয়েকটি মসজিদে হামলার ঘটনা অনেককেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। মসজিদে হামলার ঘটনা পাকিস্তানে হরহামেশাই দেখা যায়। তবে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মনে করেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি কখনোই পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো হবেনা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক উস্কানি থাকতে পারেও বলে তার ধারনা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অনেকে অপচেষ্টা চালাতে পারে। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মত একটা জঙ্গি চেহারায় নিয়ে যেতে পারবে না।’ তিনি বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। জঙ্গি কার্যক্রম বৃদ্ধির পেছনে সেসব দলের উস্কানি থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই এসব কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না বলে তিনি মনে করেন। জঙ্গিবাদ দমন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে এটাকে কঠোরভাবে দেখতে হবে, পাশাপাশি সামাজিকভাবেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
