সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় শহীদুল ইসলাম খোকন

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:১৭
আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতিতে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন। গত বৃহস্পতিবার থেকে তাকে রাজধানীর উত্তরায় আধুনিক হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লিটুর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
 
শহীদুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী জয় ইসলাম জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তাকে আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর অবস্থার অবনতি ঘটলে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে তাকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। সন্ধ্যার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।’ দুরারোগ্য মোটর নিউরো ডিজিজে (এএলএস) আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় এই চলচ্চিত্রকার। গতবছর তাকে আমেরিকায় নিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু ওখানকার ডাক্তাররা বলে দিয়েছেন এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। বাধ্য হয়ে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর সাময়িকভাবে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন এ চলচ্চিত্র পরিচালক।
 
দীর্ঘদিন বাকযুদ্ধ অবস্থায় থাকার পর গতকাল তার শরীরের অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক হাসপাতালের আইসিইউ-তে নেওয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। শহীদুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী আরও জানান, ‘আমেরিকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ওখানকার চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই বিরল রোগের এখনও কোনো চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি। কথা বলার পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে চলাফেরার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন কয়েকমাস আগে।’
 
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে মাসুদ পারভেজ পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’ ছবিতে সহকারি পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন শহীদুল ইসলাম খোকন। ১৯৮৫ সালে ‘রক্তের বন্দী’ ছবির মাধ্যমে মূল পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি। তার ছবিতে অভিনয় করে অনেকে জাতীয় পুরস্কার পেলেও এই পরিচালকের ভাগ্যে জোটেনি কোনো পুরস্কার। চলচ্চিত্রের জন্য তার নিজ বাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছেন একসময়।