এখন চলচ্চিত্র মুক্তির পর আমরা ক্ষতির হিসেব কষি : শাবনূর

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:২৯
ঢাকাই চলচ্চিত্রে এখনও শাবনূর মানেই নতুন এক চমক। এক সময় তার নাম দেখেই দর্শক হলে যেতেন। শুধু তাই নয়, চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতায় তিনি ছিলেন অন্যতম একটি নাম। তবে মাঝে অনেকদিন দেখা যায়নি এই জনপ্রিয় নায়িকাকে। গতবছর এক ঝলকের মতো তাকে এফডিসিতে শুটিং করতে দেখা গেলেও কিছুদিন পরই আবারও বিদেশ পাড়ি জমান। কিন্তু নতুন বছরে তিনি আবারও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়ার কথা জানান। দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা ও চলচ্চিত্রে তার নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে।
 
মাঝে একবার শুটিং শুরু করলেও এখন আবারও অনিয়মিত আপনি, দর্শকরা কি আবারও আপনাকে নিয়মিত পাবে?
 
দর্শকদেরকে আমি হতাশ করতে চাই না। অনিয়মিত আমি কখনোই ছিলাম না। মাঝে আমি মা হওয়ার কারণে কিছু সময় সাময়িক বিরতিতে ছিলাম। আবার আমি কাজ করবো, তবে বেছে বেছে কাজ করবো। আমার সন্তান এখনও ছোট, তাই ওকে নিয়ে এখন ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তবে চলচ্চিত্রে আমি নিয়মিত হবো আবারও। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিচ্ছি। আর বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর আবারও দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন।
 
সংসার থেকে কাজের বিষয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি-না?
 
সংসারে আমি এখনও আগের মতোই আছি। আমার কখনও মনেই হয় না যে, আমার বিয়ে হয়েছে। সংসারটা আমি ওভাবে বুঝি না। পরিবার থেকেও কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। আমার পরিবার থেকে আমাকে কাজের জন্য নিয়মিত উত্সাহ দেয়। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি বলে, এই মা তুমি ছবি করছো না কেন? তুমি ছবি করো।’ আমার স্বামীরও এই বিষযে কোনো আপত্তি নেই। সেও কাজটা খুব পছন্দ করে, পরিবার থেকেও সবাই পছন্দ করে।
 
ক্যারিয়ারে অনেকটা সময় পার করলেন চলচ্চিত্রে। এখনকার চলচ্চিত্রের অবস্থা নিয়ে কি বলবেন?
 
কয়েক বছর আগে ফিরে গেলে দেখা যাবে, আমাদের চলচ্চিত্রে একটি ক্রান্তিকাল চলছিল। সেই জায়গা থেকে এখনকার অবস্থা তুলনা করলে বলা যায়, এখন অবস্থা অনেক ভালো। তবে সার্বিক দিক থেকে বলবো আমাদের চলচ্চিত্রের সেই অবস্থা এখন আর নেই। দর্শক এখন হল-মুখী নয়। আমাদের চলচ্চিত্রে এখন পেশাদারিত্বের অভাব। সবাই দায়সারা কাজ করতে চায়। এখন অনেক নতুন মুখ এসেছে, কিন্তু তাদের সরব দেখা যাচ্ছে না। ছবির সংখ্যা তুলনামূলক-ভাবে বাড়ছে। কিন্তু মানের দিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে। বছরে দশটা দুর্বল গল্পের ছবির চেয়ে একটি ভালো গল্প নির্ভর চলচ্চিত্র ভালো। আর একটি চলচ্চিত্র বড় টিম ওয়ার্কের কাজ, এখানে সবাইকে ডেডিকেটেড থাকতে হবে।
 
এই অবস্থা উত্তরণের পথে কি মনে করেন?
 
ওই যে বললাম, পেশাদারিত্বের অভাব। তাই সবাইকে পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর এখানে ইতিবাচক ভূমিকায় থাকতে হবে। এছাড়াও পেশাদার প্রযোজকের সংখ্যা বাড়লে চলচ্চিত্রের অবস্থারও উন্নতি হবে।
 
অনেক নির্মাতা নতুনদের নিয়ে কাজ করতে চান না, এ বিষয়ে কি বলবেন?
 
এ বিষয়ে আগ্রহ না থাকার অনেক কারণ আছে। কারণ এখন চলচ্চিত্রে বাজেট অনেক বেশি। প্রযোজক চায় তার লগ্নি যেন উঠে আসে। তবে নতুনদের আসা জরুরি। কারণ একটি নতুন ধারা সৃষ্টিতে ও চলচ্চিত্রের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য তরুণদের ভূমিকায় অনেক। আর নতুনরা একেবারে কাজ করছে না সেটা কিন্তু ঠিক না। কারণ অনেক নতুন মুখ আমি চলচ্চিত্রে দেখছি, যারা সরাসরি চলচ্চিত্রে এসেছে। ছোটপর্দা থেকেও অনেকে এসেছে।
 
এখন হল সঙ্কটের কারণেও চলচ্চিত্রের এখন খারাপ অবস্থা, এ বিষয়ে কি মনে করেন?
 
হ্যাঁ, সেটা তো অবশ্যই। কারণ এক সময় প্রায় ১৪০০ হল ছিল। তখন একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে কত লাভ হলো সেই হিসেব করতাম। এখন চলচ্চিত্র মুক্তির পর আমরা ক্ষতির হিসেব কষি। এর মূর কারণ হল। এখন মাত্র তিনশ’র মতো হল আছে। একই দিনে দু’টি চলচ্চিত্র মুক্তি দিতে এখন আমরা ভয় পাই। তাই হলের বিষয়ে সরকারের সু-পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।