ফি রে দে খা ২ ০ ১ ৫

প্রযুক্তিবিশ্বের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বল নক্ষত্র

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৬, ০৩:০৪
আগের বছরগুলোর মতো গত বছরেও প্রযুক্তিবিশ্ব হারিয়েছে বেশ কয়েকজন প্রযুক্তিবিদ, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা; যারা তাদের নিজ নিজ মেধা প্রয়োগ করে প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য কাজ করে গেছেন সারাজীবন ধরে। গত বছর প্রযুক্তিবিশ্ব থেকে হারিয়ে যাওয়া এমনই কয়েকজনের কথা তুলে ধরছেন সানজিদা সুলতানা
 
চার্লস এইচ টাউনস
 
জুলাই ১৯১৫ - জানুয়ারি ২০০৫
 
লেজার প্রযুক্তির সহ-উদ্ভাবক
 
আধুনিক প্রযুক্তিতে লেজারের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা করার কিছু নেই। দৈনন্দিন জীবনে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় লেজারকে কীভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে কাজ করা গবেষকদের অন্যতম চার্লস এইচ টাউনস। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক তার দুই সহকর্মীকে সাথে নিয়ে ১৯৫৩ সালে উদ্ভাবন করেছেন মেজার (মাইক্রোওয়েভ অ্যামপ্লিফিকেশন বাই স্টিমুলেটেড এমিশন অব রেডিয়েশন)। এরও পরে উদ্ভাবিত হয় লেজার। টাউনস ও তার সহকর্মীরা তাদের উদ্ভাবনের জন্য ১৯৬৪ সালে পদার্থে নোবেল লাভ করেন।
 
জন এফ ন্যাশ
 
জুন ১৯২৮ - মে ২০১৫
 
গণিতবিদ
 
বিখ্যাত গণিতবিদ জন ন্যাশ সকলের কাছে পরিচিত বলিউডের চলচ্চিত্র ‘আ বিউটিফুল মাইন্ডে’র মাধ্যমেই। চলচ্চিত্রটিতে যে গণিতের অধ্যাপকের জীবনী তুলে ধরা হয়েছে, তা মূলত জন ন্যাশের জীবন অবলম্বনেই রচিত। গণিতবদিন হলেও ন্যাশের গবেষণা জীববিজ্ঞান, অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোকেও প্রভাবিত করেছে। নোবেল লরিয়েট এই গণিতবিদ মধ্যবয়সে এসে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন। তার কাজের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম যা বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যার সমাধানের একগুচ্ছ দ্বার উন্মোচন করে দেয়।
 
সাতোরু আইওয়াতা
 
ডিসেম্বর ১৯৫৯ - জুলাই ২০১৫
 
ভিডিও গেম ডেভেলপার
 
হাল ল্যাবরেটরিতে গেম ডেভেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সাতোরু আইওয়াতা। এখান থেকেই তিনি নিনটেনডো গড়ে তোলার সাথেও জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি নিনটেনডোতেও যোগদান করেন। এক পর্যায়ে ২০০২ সালে তিনি নিনটেনডোর প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পান। নিনটেনডো ডিএস এবং নিনটেনডো উই বাজারে নিয়ে আসতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন আইওয়াতা। ভিডিও গেমকে মূলধারায় নিয়ে আসতে আওয়াতাকে একজন পথিকৃত্ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
 
জেমস এল ফ্ল্যানাগান
 
্বআগস্ট ১৯২৫ - আগস্ট ২০১৫
 
শব্দ প্রকৌশলী
 
অডিও বা সাউন্ড সিস্টেমের যেসব উপকরণ এখন বিশ্বব্যাপী রাজত্ব করছে, তার অনেকগুলোর সাথেই জড়িয়ে রয়েছে ফ্ল্যানাগানের নাম। স্পিচ রিকগনিশন, টেলিকনফারেন্সসহ আধুনিক বিভিন্ন অডিও অ্যাপ্লিকেশন চালু হয়েছে এই প্রকৌশলীর হাত ধরেই। এমনকি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অডিও ফাইল ফরম্যাট হিসেবে যে এমপিথ্রি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে, তাও এসেছে ফ্ল্যানাগানের হাত ধরেই। বেল ল্যাবরেটরিতে প্রায় ৩৩ বছর কাজ করেছেন তিনি। পরে নিউ জার্সির রুটগার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও এর গবেষণা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেন ফ্ল্যানাগান।
 
জিন অ্যামডাল
 
নভেম্বর ১৯২২ - নভেম্বর ২০১৫
 
মেইনফ্রেম কম্পিউটারের নির্মাতা
 
আজকের আধুনিক সব কম্পিউটারের প্রথম প্রজন্ম হিসেবে মনে করা হয় মেইনফ্রেম কম্পিউটারকে। আর মেইনফ্রেম কম্পিউটারের অন্যতম নির্মাতা হিসেবে প্রযুক্তিবিশ্বের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন জিন অ্যামডাল। আইবিএমের শুরুর দিকের আইবিএম ৭০৪ ও আইবিএম সিস্টেম/৩৬০ ঘরানার মেইনফ্রেম কম্পিউটার নির্মাণে অ্যামডাল চিফ আর্কিটেক্ট হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭০ সালে আইবিএম ছাড়ার পর তিনি নিজস্ব কোম্পানি অ্যামডাল করপোরেশন গড়ে তোলেন। ফুজিত্সুর কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার আগে অ্যামডাল করপোরেশনের দখলে ছিল কম্পিউটার বাজারের প্রায় ২৫ শতাংশ।