গাড়ি ছেড়ে অটোরিকশা মোটরসাইকেল, বাসে দিল্লির মন্ত্রীরা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৬, ২৩:৪২
বায়ু ও শব্দ দূষণ রোধে রাজপথে গাড়ির সংখ্যা কমাতে ‘জোড়-বেজোড়’ নিয়ম কার্যকর শুরু হয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। নিয়ম অনুযায়ী, দিল্লির রাজপথে একদিন চলবে জোড় নাম্বারের গাড়ি অন্যদিন বেজোড় নাম্বারের গাড়ি। গতকাল জানুয়ারির ১ তারিখ ছিল বেজোড় সংখ্যার গাড়ির দিন। তাই এদিন জোড় নাম্বারের গাড়ি রাস্তায় নামেনি।
 
ফলে সরকারের যেসব মন্ত্রীর জোড় নাম্বারের গাড়ি আছে তারা অফিসে যাওয়ার জন্য হয় অটোরিকশা নয়তো মোটরসাইকেল নয়তো বাসে চড়তে বাধ্য হন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, মানুষ নিয়ম মানছে,  তাতে তিনি খুশি।
 
দূষণ ঠেকাতে আলাদা দিনে জোড়-বেজোড় নম্বরের গাড়ি চালানোর যে নিয়ম কেজরিওয়াল সরকার করেছে, গতকাল শুক্রবার থেকে ১৫ দিনের জন্য তা  পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। জোড় তারিখে জোড় নাম্বারের গাড়ি এবং বেজোড় তারিখে বেজোড় নাম্বারের গাড়ি রাস্তায় নামতে পারবে। এই নিয়ম কেবল চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। গতকাল ১ তারিখ হওয়ায় বেজোড় নম্বরের গাড়ি চলার দিন ধার্য ছিল। ফলে এ নিয়মের ফাঁদে পড়তে হয়নি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে। কারণ তার গাড়ির নাম্বারপ্লেট বেজোড় সংখ্যার। তার গাড়িতে চড়েই অফিসে গেছেন পরিবহনমন্ত্রী গোপাল রায় ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দর জৈন। দিল্লিবাসীকে উত্সাহ দিতে দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনিশ সিসোড়িয়া বলেছেন, নগরীর স্বার্থে সব সময় নিজেদের গাড়ি ব্যবহারের চিন্তা আমাদের ছাড়তে হবে।
 
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন অমান্যকারীকে ২ হাজার রুপি জরিমানা দিতে হবে। তবে প্রথমদিন পুলিশ ততটা কঠোর আচরণ করেনি। যারা জোড় নাম্বারের গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন তাদের পুলিশ অমায়িক আচরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন যে, তাদের স্বার্থেই এই নিয়ম করা হয়েছে। তাই একে সম্মান জানানো উচিত। তবে নারী চালক, ভিভিআইপি, জরুরি সেবা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পুলিশ ছাড় দিচ্ছে। দূতাবাসগুলোকেও এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে মার্কিন এবং ফরাসি দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারাও দিল্লিতে অবস্থানকালীন জোড়-বেজোড় আইন মেনে চলবেন।
 
কেজরিওয়াল ও তার মন্ত্রীরা বলেছেন, তারা গাড়ি ভাগাভাগি করে চলবেন, বাইসাইকেলে চড়বেন কিংবা বাস ধরবেন। গতকাল পর্যটনমন্ত্রী কপিল মিশ্র কাজে বের হন মোটরসাইকেল নিয়ে। পরিবেশমন্ত্রী ইমরান হুসাইনের গাড়ির নম্বর জোড় সংখ্যার। তিনি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশায় করে মন্ত্রণালয়ে যান। আর সমাজকল্যাণমন্ত্রী সন্দিপ কুমারও বাসে চড়ে অফিসে যান। এক মন্ত্রী বলেন, আমার গাড়ি বেজোড় সংখ্যার। তাই জোড় সংখ্যার দিনে আমি সাইকেলে চড়ে অফিসে যাব।
 

উল্লেখ্য, দিল্লিতে দূষণের কারণেই প্রতি বছর ৬ লাখ মানুষ বিভিন্ন রোগে ভুগে অকাল মৃত্যুর শিকার হয়। সামপ্রতিক সময়ে দূষণের মাত্রা এতোটাই বেড়ে গেছে যে, দিল্লি হাইকোর্ট এ শহরকে তুলনা করেছে গ্যাস চেম্বারের সঙ্গে। দিল্লিতে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৯০ লাখ। তাই জোড় বেজোড় নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হলে দূষণ অনেকাংশে কমে যাবে বলে স্বীকার করেছেন পরিবেশবিদরা।