আইন-শৃঙ্খলায় স্বস্তি, নির্বিঘ্ন নববর্ষ

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৬, ২৩:৫৩
থার্টিফাস্ট নাইট, ইংরেজি নববর্ষ নির্বিঘ্ন হবে কীনা- এ নিয়ে শংকা ছিল অনেক। গোয়েন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ছিল দ্বিধাদ্বন্দ্বে। পাশাপাশি ছিল একদিন আগে শেষ হওয়া দেশের ২৩৪টি পৌর নির্বাচন। কিন্তু না- অন্যান্য বারের তুলনায় পরিস্থিতি ছিল বলতে গেলে অনেকটা স্বাভাবিক। দেশের কোনো প্রান্ত থেকে শোনা যায়নি বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর।
 
২০১৫-কে বিদায় জানিয়ে ২০১৬’তে পা রেখেছে বিশ্ব। ভৌগোলিক অবস্থান আর সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে বর্ষবরণ করলেও সবার প্রত্যাশা আশা-আকাঙ্ক্ষা এক ও অভিন্ন। সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা স্পর্শ করা মাত্র দেশবাসী নতুন বছরকে বরণ করেছে।
 
 আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে নতুন বছরকে সম্ভাষণ জানানোর জন্য এবার রাজধানীর রাস্তায় ছিল না মানুষের ভিড়, ছিল না তেমন অন্ধকার আকাশ উজ্জ্বল করে তোলা আতশবাজির রোশনাই। অল্প-স্বল্প আনন্দ আয়োজন যা হয়েছে তার প্রায় সবই মহল্লাকেন্দ্রিক আর ঘরোয়াভাবে। পার্টি একেবারে বন্ধ হয়নি, তবে তা ছিল হোটেল কেন্দ্রিক আর আমন্ত্রিতদের জন্য একেবারেই সংরক্ষিত।  শুধু প্রাণখোলা উদযাপন ছিল কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায়।
 
এমন অভাবনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে এ নিয়ে তেমন ক্ষোভ ছিল না নিরাপত্তার স্বার্থেই সবাই বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিয়েছেন।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতার কারণেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পেরেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শংকা তো ছিল। তবে প্রতিহত করতে আগে থেকেই ছিল কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি। ফলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
 
প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন মহাপুলিশ পরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, সবদিক বিবেচনায় রেখে এবং অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। তাছাড়া জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠন, সাধারণ মানুষ, কমিউনিটি পুলিশসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছিল। এ কারণে কঠোর কড়াকড়ির মধ্যে মানুষের মধ্যে কোনো ক্ষোভ ছিল না।
 

তিনি আরো বলেন, থার্টিফাস্ট নাইট ও নববর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সদ্য শেষ হওয়া পৌর নির্বাচন। কিন্তু সেখানেও বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি।