শব্দদূষণের কারণে চলে যাচ্ছে জাবির পরিযায়ী পাখি

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৬, ০২:০০
বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যান্ড পার্টি, পটকা এবং আতশবাজির কারণে চলে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিযায়ী পাখি। প্রতিদিন বহিরাগত ও কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী এই শব্দ দূষণের জন্য দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে নিষেধজ্ঞা থাকলেও কার্যকরী পদক্ষেপের অভাবে এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 
 
জানা যায়, প্রতিবছর শীতকালীন সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে  অনেক পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত এ ক্যাম্পাসে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের অনুষ্ঠান উপলক্ষে ব্যান্ড বাজিয়ে র্যালি, পটকা ফুটানো, আতশবাজি, উচ্চ শব্দে মাইকিং, কনসার্ট, গাড়ির হর্ন, পাখি উড়িয়ে ছবি উঠানোর জন্য হাততালি দেয়াসহ বিভিন্নভাবে প্রতিদিনই অতিথি পাখিদের উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাস আগুন দিয়ে পোড়ানোর ফলে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেকের বেশিরভাগ পরিযায়ী পাখি চলে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বছরের কিছু নিষেধাজ্ঞামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
এ বিষয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কবিরুল বাশার দৈনিক ইত্তেফাক’কে জানান, পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড না থাকা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অনুমতির দেয়ার সময় এ বিষয়ে সতর্ক না করার কারণে এমনটি ঘটছে।
 
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আয়োজকদের কখনোই মনেই থাকে না যে, এখানে মানুষ ছাড়াও অতিথি পাখির বিচরণ রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্যাম্পাস অতিথি পাখির অভয়ারণ্য না হয়ে ভয়ের অরণ্যে পরিণত হবে।’ এ ব্যাপারে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘নিরিবিলি পরিবেশ পাওয়া যাবে বলেই অতিথি পাখিরা এখানে আসে। নিত্য নৈমত্তিক এরকম হৈ চৈ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অতিথি পাখির আগমন অবধারিত ভাবে হ্রাস পাবে।’
 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘যারা এসব করছেন সবাই শিক্ষিত মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। না মানলে কি করবো?’