ইরান-সৌদি আরব বিরোধ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশংকা জাতিসংঘের

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৬, ১৪:৩৮
সৌদি আরব ও ইরানের কূটনৈতিক বিরোধে সিরিয়া ও ইয়েমেনে শান্তি আলোচনা হোঁচট খেতে পারে -এ আশংকায় জাতিসংঘ শান্তি প্রক্রিয়া রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগী হয়েছে। সিরিয়ায় জাতিসংঘ দূত স্টেফান ডি মিটুরা আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে রিয়াদ গেছেন। 
 
চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে তিনি তেহরান যাবেন। সিরিয়ার শান্তি আলোচনায় অর্জিত সাফল্য যেন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে তা সামলাতেই জাতিসংঘ দূত এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ নিমর আল নিমরের মৃত্যুদন্ড রিয়াদ কার্যকরের পর বিক্ষোভকারীরা তেহরানে সৌদি দূতাবাসে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব রোববার ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। উভয় দেশের কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন টেলিফোনে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পরিস্থিতি আরো নাজুক করার মতো যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। বান কি-মুনের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক একথা জানান।
 
তিনি আরো বলেন, রিয়াদ ও তেহরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, সিরিয়ার প্রায় পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসান এবং ইয়েমেনের জন্য একটি রাজনৈতিক সমাধান আনতে ইরান ও সৌদি আরব উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যদিও সৌদি দূত আবদুল্লাহ আল মুয়ালিমি বলেছেন, ইরানের সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেও সিরিয়া ও ইয়েমেনের শান্তি প্রক্রিয়ায় তা প্রভাব ফেলবে না। তিনি জানান, পরবর্তী দফার সিরীয় শান্তি আলোচনায় সৌদি আরব অংশ নেবে।
 
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়েরের সঙ্গে আলাপকালে বান কি-মুন শেখ নিমর আল নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি তেহরানে সৌদি দূতাবাসে হামলাকে দু:খজনক এবং ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের সৌদি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফের সঙ্গে আলাপকালে বান কি-মুন কূটনৈতিক স্থাপনা রক্ষার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি-ইরান দ্বন্দ্বে সিরিয়ার শান্তি প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব শক্তিধর অন্যান্য দেশের সমন্বয়ে চলা শান্তি আলোচনায় আবার রিয়াদ ও তেহরানকে একই টেবিলে বসানো হবে কঠিন কাজ। এএফপি।