প্রার্থনায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরা

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৬, ২০:৩৮
অনেকদিন ধরেই শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্নর মধ্যে আছেন চলচ্চিত্রের দু'জন গুণী ব্যক্তি, পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন ও অভিনেত্রী পারভিন সুলতানা দিতি। শহীদুল ইসলাম খোকন এখন রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইভ সাপোর্টে আছেন। মোটর নিউরন রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন খোকন। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছিল তাকে। সেখানে বেল-ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এই রোগের চিকিৎসা না থাকায় হতাশ করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
 
সম্প্রতি শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। খোকনের পরিবার থেকে জানা যায়, শুরুর দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না তাদের। কিন্তু অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে বাধ্য হয়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অন্যদিকে পারভিন সুলতানা দিতির অবস্থাও গুরুতর। ভারতের চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রামাটোলজিতে চিকিৎসাধীন আছেন  দিতি। আরোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। তাই সৃষ্টিকর্তাই এখন শেষ ভরসা দিতির পরিবারের জন্য।
 
দিতির মেয়ে লামিয়া মায়ের এই দুরবস্থা নিয়ে একটি পোস্ট দেন সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'মা মারা যাচ্ছে। আমাকে তার বিষয়ে প্রশ্ন করা বন্ধ করুন। উনি ভালো হয়ে যাবেন এ ধরণের সান্ত্বনা দেয়াও বন্ধ করুন। চিকিৎসকদের হাতে তার জন্য আর কিছুই করার নেই। কেমোথেরাপির রেডিয়েশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার 'পারকিনশন' রোগ হয়েছে। তার ক্যান্সার তাকে মারছে না। টিউমারও হয়নি আর। রেডিয়েশনের ফলেই তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা যদি সহায় হন তাহলে তাকে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করবেন অতি দ্রুত। আল্লাহ আমার মাকে মৃত্যু উপহার দাও। তিনি আমাদের চিনতে পারছেন না কিন্তু তোমার প্রতি তার বিশ্বাস অবিচল। তিনি আমাদের ডাকতে পারছেন না কিন্তু তোমাকে তিনি মনে করছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সঠিক কাজটাই করেন।'
 
এমনই এক আবেগঘন স্ট্যাটাস ফেসবুকে দেন লামিয়া। সময়টা প্রতিনিয়তই খারাপ যাচ্ছে এই দু'জনের। এখন যেন সময়টা শুধু মৃত্যুর তারিখটি দাগ দিয়ে রাখার। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের অস্তিত্বের জায়গাটা কতটুকু থাকবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে। বিগত সময়গুলোতে ইন্ডাস্ট্রি যেসব গুনি মানুষদের হারিয়েছে তাদের নিয়ে তেমন কোনও কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিল না শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতি। এমনকি তাদের পরিবারের কোনও খবরও নেই এখন। মানুষগুলো চলে যাওয়ার সাথে সাথে যেন তাদের পদচাপগুলোও মিশে যায়। যেখানে বলিউডে পারিবারিক ধারাবাহিকতা ও ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের অবস্থান বেশ ইতিবাচক কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ হয়ে আমাদের এসব ইস্যু খবরের পেছনেই রয়ে যায়।
 
যদিও এখন শহীদুল ইসলাম খোকন ও দিতির খোঁজখবর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই নিচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও ছিল আর্থিক সহযোগিতা। দেশবাসীর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে এখন পরিবারের চাওয়া শুধুই প্রার্থনা।