হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক মাদক ব্যবসায়ী হাসনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে র্যাব-৯ এর সদস্যরা হাসনা বেগম ও তার সহযোগী মিজানুর রহমানকে আটক করে। সোমবার (১১ মার্চ) রাতে ওই উপজেলার উত্তর গজনাইপুর গ্রামের বিজনা নদীর তীরবর্তী ওই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৫৭০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৭ টাকা জব্দ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম।
তিনি জানান, 'এর আগেও বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে এ সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছিল না। ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে র্যাব সদস্যদেরকে স্থানীয় প্রতিরোধের মুখে ফেলার রেকর্ডও আছে তাদের। অবশেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ব্লকরেইড দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং এক সহযোগীসহ তাকে আটক করা সম্ভব হল'।
র্যাব জানায়, উত্তর গজনাইপুর গ্রামের বিজনা নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা হাসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। স্বামী রুয়েল মিয়ার মৃত্যুর পর সন্তানহীন এই নারী ইয়াবা ব্যবসায় পূর্ণ মনযোগ দেয়। প্রথমে বড় ডিলারদের কাছ থেকে দুই থেকে চার পিস কিনে খুচরা বিক্রি করতো। এক সময় নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে ইয়াবা বাজার। ভাই শারজানকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগে নিজ বাড়িতে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলো হাসনা বেগম। বিভিন্ন সময় র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে অভিযানে গেলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করতো সে। ফলে অভিযান তেমন সফল হয়নি।
আরও পড়ুন: কক্ষের অভাবে পরিত্যক্ত মাটির কক্ষে ক্লাস, ভয়াবহ ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
র্যাব সূত্রে জানা যায়, সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার আস্তানায় ফের অভিযান চালায় র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সদস্যরা। এ সময় তাদের ঘায়েল করতেও তিনি একই কৌশল নেন। দম্ভোক্তি করে বলেন 'পিস্তল আছে, গুল্লি নাই, তোরা ভুয়া র্যাব'। কোন কিছুতেই কাজ না হলে তিনি বাটি দা নিয়ে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীদের সহায়তায় র্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে। পরে তার ঘর তল্লাসী চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করে অভিযানকারী দল। অভিযানের আগেই পালিয়ে যায় হাসনার ভাই শারজান মিয়া।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
