খুলনায় আনবিক শক্তি কমিশনের অ্যাকাউন্টস অফিসার মোড়ল মোস্তফা কামাল (৫১) তার প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া আক্তার অরিনকে (১৮) হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর আহসান আহমেদ রোডের ভাড়া বাসার (হোল্ডিং নম্বর-৮) নিচতলা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খবর পেয়ে আহসান আহমেদ রোডের ৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাসার নিচতলার বেডরুম থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে অবস্থিত আনবিক শক্তি কমিশনের অ্যাকাউন্টস অফিসার মোড়ল মোস্তফা কামাল (৫১) ও তার প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া আক্তার অরিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোস্তফা কামালের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল এবং তার মেয়ে অরিনের লাশ বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় ছিল।
নিহত মোস্তফা কামালের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে তার স্বামী প্রতিবন্ধী বড় মেয়ে অরিনকে নিয়ে পাশের রুমে ঘুমাতে যান। বুধবার ভোরে ফজরের আজানের পর তাকে নামাজের জন্য ডাকতে গেলে ভেতর থেকে রুম বন্ধ দেখে বাইরের জানালা দিয়ে তাকালে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় মোস্তফা কামাল এবং খাটের ওপর মেয়ে অরিনের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে।
ইয়াসমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, 'তার স্বামী মোস্তফা কামাল অসুস্থ ছিলেন। ৬ ডিসেম্বর তার কোমরে অপারেশন করা হয়। গত রবিবার তিনি অফিসে যোগদান করেন। তিনি অফিসের চারতলায় অফিস করতেন। ওপরে ওঠানামার জন্য তার কষ্ট হত। এজন্য তিনি তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চারতলা থেকে তাকে নিচতলায় দেয়ার জন্য বলেন। এতে ওই কর্মকর্তা তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। এ নিয়ে তিনি অনেক মানসিক কষ্টে ছিলেন।'
তিনি আরও জানান, তার স্বামী মোস্তফা কামাল তার দুই মেয়েকে খুব ভালো বাসত। বড় মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনিই তাকে বেশি দেখাশোনা করতেন।
এদিকে মৃত্যুর আগে মোস্তফা কামাল তার ডায়েরিতে চিঠি লিখে গেছেন ‘আমার মৃত্যুর জন্য ইনচার্জ খুলনার পরিচালক ডা. অশোক কুমার পাল দায়ী। আমি অসুস্থ হওয়ায় গেস্ট হাউজের নিচে বসতে চেয়েছিলাম। এতে তিনি আমার সঙ্গে প্রচন্ড দুর্ব্যবহার করে। ফলে আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপদগ্রস্ত হয়ে এ পথ গ্রহণ করলাম।’ এছাড়া চিঠির নিচে তাং ৫-১-১৬, রাত ১০টা লেখা রয়েছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, 'প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চরম হতাশা থেকে মোস্তফা কামাল এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি আত্মহত্যার আগে তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার অরিনকে গলা টিপে হত্যা করেছেন। অরিনের গলার ডান পাশে কালো দাগ রয়েছে। তবে অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কী না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
খুলনা সদর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জিয়া উদ্দিন বলেন, 'দুই জনের লাশ একটি কক্ষের মধ্যে পাওয়া গেছে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ করা ছিল। এর মধ্যে গলায় উড়না পেঁচিয়ে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আর বাবার লাশটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে কারণে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েকে হত্যার পর বাবাও আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত মোস্তফা কামালের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার আট্টাকা গ্রামে। তার ছোট মেয়ে আনিকা (১৩) খুলনা সরকারি করোনেশন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
