গুয়ান্তানামোর দুই বন্দিকে ঘানায় পাঠানো হচ্ছে: পেন্টাগন

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৬, ১০:৪১
কিউবার গুয়ান্তানামো কারাগারে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দি দুই ইয়েমেনিকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ঘানায় পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বুধবার জানিয়েছে, ওই দুই বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েকবছর পর অবশেষে তারা ঘানায় পুনর্বাসিত হতে যাচ্ছেন।
 
এর আগে ৫০টিরও বেশি দেশে গুয়ান্তানামোর বন্দিরা পুনর্বাসিত হলেও ঘানা এই প্রথম বারের মতো গুয়ান্তানামোর দুই বন্দিকে গ্রহণ করতে যাচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই দুই বন্দির নাম মাহমুদ উমর মুহাম্মাদ বিন আতিফ এবং খালিদ মুহাম্মাদ সালিহ আল-ধুবি। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, আল-ধুবি ১৯৮১ সালে সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি যুদ্ধ করার জন্য আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন। তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সম্ভাব্য সদস্য বলে মনে করা হয়। তিনি আফগান বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার পর ২০০২ সালে তাকে গুয়ান্তানামো বে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০০৬ সালে গুয়ান্তানামো বেতে পেন্টাগনের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করেছিল। অপর বন্দি ইয়েমেনের নাগরিক বিন আতিফ ১৯৭৯ সালে সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০১ সালের নভেম্বরে তিনি আফগানিস্তানে ধরা পড়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
 
২০০৭ সালে পেন্টাগন বিন আতিফকে তালেবান গোষ্ঠীর সদস্য বলে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু বিন আতিফের মার্কিন আইনজীবী জানিয়েছেন তাকে ২০০৯ সালেই মুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। ঘানা এই দুই বন্দিকে তাদের দেশে রাখবে কিনা এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য দুই বছর তাদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর নিরাপত্তা ছাড় পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হানা তেতেহ জানিয়েছেন।প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ১১ জানুয়ারি গুয়ানতানামো কারাগারে প্রথম ২০জন বন্দি পাঠানো হয়। ধীরে ধীরে বন্দির সংখ্যা ৭৮০তে উন্নীত হয়েছিল।
 
কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিবিরে এই কারাগারটি স্থাপন করা হয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শত্রু শিবিরের যোদ্ধাদের আটক করে রাখা হত। আটক বন্দিদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়নি কিংবা তাদের বিচার হয়নি। রয়টার্স।