পাঠানকোটে হামলা: প্রশিক্ষণ হয় পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে!

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৬, ১৫:৩৯
 
পাঞ্জাব প্রদেশের পাঠানকোট বিমানবন্দরের হামলাকারীরা পাকিস্তানের একটি বিমানঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। তারা বলছে, জইস-ই মোহম্মদের জঙ্গিরা ইসলামাবাদের কাছে চাকালা ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। হামলার প্রায় মাসখানেক এই প্রশিক্ষণ নেয় তারা।
 
ভারত সরকারের ঊর্ধ্বতন সূত্রের ভাষ্যে, জঙ্গিরা প্রশিক্ষিত পাইলট না হলেও কিভাবে বিমান ও অন্যান্য সম্পদ ধ্বংস করতে হয় তারা তা জানে। পাঠানকোটের নকশা সম্পর্কে হামলাকারীদের ভালো ধারণা ছিল। এছাড়া বিমান, গোলবারুদ ও পেট্রোলের মজুদ সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল।
 
সূত্রের ভাষ্যে, সন্ত্রাসীরা হামলার সময় অ্যালুমিনিয়াম পাউডার বহন করেছিল। বিস্ফোরণকে আরো বেশি শক্তিশালী করার জন্য এই পাউডার ব্যবহার করা হয়েছিল।
 
তদন্তে দেখা গেছে, জঙ্গিরা পাকিস্তানের শিয়ালকোট, শাকারগড় ও ভাওয়ালপুর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল। প্রধান একজন নিয়ন্ত্রক শিয়ালকোটে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
 
হামলার বিষয়ে আগেই তথ্য থাকার ব্যাপারে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দাবি করলেও বিমানঘাঁটিতে হামলা বিষয়টি সুনির্দিষ্ট ছিল না।
 
একটি সূত্র বলেছেন, ব্যয়বহুল ও বিমান ও মিসাইলে মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হামলার দুইদিন আগেই সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। ঐ এলাকায় সেনা সংস্থা সতর্ক অবস্থানে আছে।
 
হামলার দিন ছয়জন জঙ্গির মধ্যে প্রথমে দুইজন বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে। কিন্তু তারা প্রথমে কোনো হামলা চালায়নি। চারজন হামলা চালানোর পরে তাদের হামলা করার নির্দেশনা ছিল। তারা জানুয়ারির ৩ তারিখ সকালে ঘাঁটির সম্পদগুলোতে হামলা চালাতে চেয়েছিল। পরে একটি বিস্ফোরণে তারা মারা যায়।
 
সূত্র বলেছে, ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী চেয়েছিল কিছু জঙ্গিকে জীবিত ধরতে। 
 
সূত্র আরো জানায়, পাঞ্জাবের পুলিশ কর্মকর্তা সালউন্ডার সিংকে হামলার বিষয়ে সহায়তায় সন্দেহ করা হচ্ছে। তার ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
 
ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) সন্দেহ করছে উজ নদীর আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে ৩১ তারিখ রাতে ভারতে প্রবেশ করে। তারা খনিনালার কাছে একদিন অবস্থান করে।
 
এনআইএ’র প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, চারজন জঙ্গি ডিসেম্বর ৩১ তারিখ ভোর চারটা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সীমান্তের কাছে একটি ঝোপের মধ্যে অবস্থান করে। 
 
তদন্তকারীরা বলছেন, ট্যাক্সি চালক ইকাগড় সিং জানুয়ারির ১ তারিখ চার জঙ্গিকে খনিনালার কাছে নামিয়ে দেয়। পরে কোহলিয়ান গ্রামের কাছে ঐ চালকের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
 
এনআইএ সন্দেহ করছে, পাকিস্তানের একটি নম্বর থেকে ফোন পেয়েছিলেন ইকাগড় সিং। তাকে অর্থের লোভ দেখিয়ে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন ঐ চারজন জঙ্গি। তাদের থামাতে গেলে সিংকে হত্যা করা হয়।