নতুন বছরে নিয়মিত আড্ডার পরিকল্পনা নেওয়া হলো বিনোদন প্রতিদিন পাঠকদের জন্য। ইত্তেফাক বিনোদন ইনচার্জ তানভীর তারেকের পরিকল্পনায় ইত্তেফাক বিনোদন উদ্যোগ হিসেবে বছরের এটি প্রথম কাজ। সেই মতে ইত্তেফাক অনলাইন ইনচার্জ এনামূল মনি’র সহযোগিতায় ব্যানারসহ আনুসাঙ্গিক প্রয়োজন পূরণ করলো অফিস ম্যানেজমেন্ট। গত ৪ জানুয়ারি তাই বছরের শুরুর আড্ডা হলো মিডিয়ার তিন ‘ন’ দিয়ে। নীরব খান, নিরব হোসেন ও নওমী। আড্ডার সূত্রধর ও সঞ্চালক ছিলেন মোস্তাফিজ মিঠু
ছবি তুলেছেন সোহেল মামুন ও মারুফ হোসেন
নতুন বছরে তিন ‘ন’ দিয়ে শুরু হলো ইত্তেফাক বিনোদন আড্ডা। পৌষের পড়ন্ত বিকেলে ইত্তেফাক কার্যালয়ে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন এ প্রজন্মের জনপ্রিয় তিন মুখ। স্টেশনের কাজ গুছিয়ে দ্রুতই আড্ডায় অংশ নিতে ছুটে এলেন আরজে নীরব খান। ইত্তেফাক অফিসে ঢুকে এমনটাই জানালেন তিনি। দুপুরের খাবারটাও খাওয়া হয়নি তার। তাই প্রথমেই তাকে খাবার দিয়ে বাকি দু’জন ‘ন’কে ফোন করলাম। চিত্রনায়ক নিরবের ফোন বেজেই যাচ্ছে... ওইদিকে নওমি ফোনের ওপার থেকে জানালেন ফার্মগেটের জ্যামে আটকে আছেন। নীরব খানের সাথেই টুকটাক আলাপচারিতা চলতে থাকলো। সিটি এফএম-এর অবস্থা জানতে চাইলাম। খাবার মুখে রেখেই উত্তর দিলেন, ‘খুব ভালো যাচ্ছে। বেশ লাভজনক অবস্থায় আছি এখন।’ এমন সময় চিত্রনায়ক নিরব-এর ফোন। নিচে অপেক্ষা করছেন তিনি। তাকে রিসিভ করতে নিচে গেলাম। গাড়ি থেকে বের হয়েই টং দোকানের চায়ের অর্ডার দিলেন। চায়ের কাপে চুমুক দিতেই ফোন বেজে উঠলো। নওমির ফোন। তাকে রিসিভ করে নিরবের সাথে চা শেষ করে অফিস ভবনের বারো তালায় এলাম। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছে তখন, তাই ফটোশ্যুটের জন্য সবাইকে নিয়ে ছাদে উঠলাম। সেখানে আমাদের ফটোগ্রাফার সোহেল মামুন ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত। অনেকদিন পর দুই মিতার দেখা (আরজে নীরব ও চিত্রনায়ক নিরব)। ছাদে উঠে নিজেরা খোশগল্প ও সেলফিতে মেতে উঠলেন। নওমি ব্যাগ থেকে মেকআপ বক্স খুলে ফেসলুকটা ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন। কিন্তু চিন্তা তার জুতো নিয়ে। কিছুক্ষণ চিন্তার পর তাকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হলাম জুতো ঠিক আছে। প্রথমে চলছিল একক ফটোশ্যুট। ক্যামেরার সামনে আরজে নীরব। বিভিন্ন ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছেন। নওমি তখনও মেকআপে ব্যস্ত। নিরব ছাদের কোণায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে ল্যান্ডস্কেপ ছবি তুলছেন। আমাদের মাঝে তখনও অনপুস্থিত এই আড্ডার আয়োজক আমাদের বিভাগীয় সম্পাদক তানভীর তারেক। মোবাইলে ম্যাসেজ দিলেন জ্যামে আটকে আছেন, আসতে আরও কিছুক্ষণ দেরি হবে। তার অবর্তমানেই শেষ বিকেলটা অফিসের ছাদে উপভোগ করছি আমরা। নওমির মেকআপ শেষ হতে আরও একটু দেরি হবে। তাই নায়ক নিরব দাঁড়িয়ে গেলেন ফটোশ্যুটের জন্য। বেশ নায়ক নায়ক ভঙ্গিতে পোজ। ফটোগ্রাফারের খুব একটা কষ্ট হলো না ফ্রেম নিতে। গোল সানগ্লাস ব্যাগ থেকে বের করে নওমি বললেন, ‘আমি রেডি’। আরজে নীরব ঠাট্টা করে বললেন ‘তোর মুখে ঘষাঘষি শেষ!’। নওমি এখন ছবি তোলায় ব্যস্ত। আর দুই মিতার সাথে মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বুলি কপচাচ্ছি। সময় আর বেশিক্ষণ নেই। সূর্য লাল হয়ে ডুবি ডুবি করছে। গ্রুপ ছবির জন্য তিনজনকে বসিয়ে দিলাম ছাদের দেয়ালে। সেখানে তাদের ঠাট্টা তামাশার মাঝেই ছবি তুলছিলেন ফটোগ্রাফার। নিচে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেলেন তিনজনই। ‘এখান থেকে পড়ে গেলে বাঁচবো তো’, তিনজনই আতঙ্কিত। তাই তাদের আতঙ্কের সমাপ্তি ঘটিয়ে নিচে গেলাম সবাই। সারাদিনের ঝামেলার পর অফিস এখন অনেকটাই ফাঁকা। তিন ‘ন’কে নিয়ে বসলাম আড্ডার গোল টেবিলে। গত বছরটায় কাজ কেমন গেছে জানতে চাইলাম। নায়ক নিরব তার ফিল্মি বিয়ে নিয়ে ছিলেন বেশ আলোচনায়। তবে পরিকল্পনায় ফিল্ম স্ক্রিপ্টের কতটা প্রভাব ছিল? নিরব হেসে দিলেন। বললেন, ‘বাস্তব জীবনের বিয়েটা চলচ্চিত্রের মতো সহজ ছিল না। চলচ্চিত্রের চেয়ে আমার বাস্তব জীবনের গল্পটা আরও জটিল। তবে আমার গল্পটি নিয়ে একটি চলচ্চিত্র হয়ে যায়।’ এরপরই সবার অট্টহাসি।
কথা প্রসঙ্গে এরপর চলে এলেন আরজে নীরব খান। দেশের তারকা আরজে তালিকায় অন্যতম একটি নাম নীরব। রেডিও টুডে থেকে আরজে যাত্রা শুরু করে এখন সিটি এফএম-এর হেড অব প্রোগ্রাম এন্ড নিউজ তিনি। স্বাভাবিকভাবেই মেয়ে ভক্তদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় আরজেদের। সেই বিড়ম্বনা থেকে নিশ্চয় আড়ালে নয় নীরব। এবার তার কাছে ছুড়ে দেওয়া হলো এমনই একটি প্রশ্ন। একটু নড়েচড়ে বসেই হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন তিনি। বললেন, ‘মেয়েরা রেডিওর প্রধান শ্রোতা, আর আরজেদের মধ্যে ছেলে সংখ্যাই বেশি। তাই স্বাভাবিকভাবেই ছেলে আরজেদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আমার ক্যারিয়ারেও এমনটি হয়েছে।’ শুধু আরজে হিসেবেই পরিচিত নয় তিনি, টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, গান, নাটকে অভিনয় এবং সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করলেন নীরব। তাই পরিচয় নিয়ে খানিকটা দ্বিধায় পড়ে গেলাম। তিনিই বললেন, ‘আমি আরজে ও অভিনেতা পরিচয়েই স্বাচ্ছন্দবোধ করি।’
সঙ্গীতশিল্পী নওমি এতোক্ষণ চুপ করে সবার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। পাশাপাশি মোবাইলেও খানিকটা উকিঝুকি মারছিলেন। ক্ষুদে গানরাজ থেকে আসা নওমি এখন আর ক্ষুদে নেই। বাচ্চাসূলভ আচরণেও এসেছে বড় বড় আভাস। তবে এখনও অনেকে নওমিকে
‘ক্ষুদে নওমি’ বলেই ডাকেন। কখনও কি মনে হয় না আপনি এখন বড় হয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। সেই সময় এমন পরিচয়ে বিব্রতবোধ করেন কি-না? নওমি বলেন, ‘ক্ষুদে গানরাজ আমাকে প্লাটফর্ম দিয়েছে তাই আমি এই পরিচয়ে বিব্রতবোধ করি না। তবুও মাঝে মাঝে মনে হয় এখন তো আমি একটু বড় হয়েছি। ধীরে ধীরে ‘ক্ষুদে নওমি’ নাম শোনাটা কমছে।’ আড্ডা আমাদের ততোক্ষণে জমে উঠেছে। হাসি ঠাট্টার পর এবার একটা ভারি প্রশ্ন। আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে। আমাদের চলচ্চিত্রের এখনকার অবস্থা? প্রথমেই বিষয়টি নিয়ে বললেন আরজে নীরব। ‘গতবছর ভারতে শতাধিক চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে আছে কয়টা! আমাদের দশটা চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে কমপক্ষে পাঁচটা চলচ্চিত্রের নাম দর্শকরা বলতে পারবেন। সেই তুলনা করলে আমাদের অবস্থা ভালো।’ এর মাঝেই যোগ করলেন নায়ক নিরব। বললেন, ‘চলচ্চিত্রের এক বড় ভাই বললো তিনি আশির দশকে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন তখন তার সিনিয়ররা বলেছেন এমন এক সময় এলে যখন অবস্থা খারাপ। আমাকেও সেই কথাই শুনতে হয় এখন এসে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এই কথাটাই শুনবে। আসলে চলচ্চিত্রের অবস্থা নিয়ে এমন মন্তব্য চলতেই থাকবে। এরমধ্যেই আমাদের সবকিছু গুছিয়ে নিতে হবে।’ এরপর নওমি বললেন তার কাজের ব্যস্ততা। জানালেন মাঝে অনেকদিন গানের বাইরেই ছিলেন তিনি। এর মাঝে একটি গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। সব মিলিয়ে বললেন, ‘মাঝে আমার কাছে যে গানই আসতো সব একই রকম লাগতো। মাঝে একবার আমার কাছে পাঁচটি গান এলো। কিন্তু গানগুলো একটি থেকে অন্যটির সুর আমি আলাদা করতে পারছিলাম না। তাই ভাবলাম একটু বিরতিতে থাকি। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিই। এর মাঝে একটি গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শুরু করেছি। এখানে অনেক অতিথি আসেন। গান নিয়ে অনেককিছু জানতে পারছি, শিখছি। মূলত এই কারণেই উপস্থাপনা করা।’ সবাই ঘড়ি দেখতে শুরু করেছেন। বুঝলাম সময়টা অনেক হয়ে গেছে। এবার তাদের বিদায় দেওয়া সময়টাও হয়ে এলো। কথার ইতিটা আমাকেই টানতে হলো। তখনও আমাদের বিভাগীয় সম্পাদক এসে পৌঁছেননি। তাকে ছাড়াই আমাদের আড্ডার সমাপ্তি ঘটলো। সবাইকে লিফট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আমি ডেস্কে বসে পরের দিনের পাতার মেকআপ শুরু করলাম।
( সহযোগিতায় :
মেহেদী হাসান সোহেল)
