ক্যামেরা ও দর্শকদের দেখলেই অসুস্থতার কথা ভুলে যাই : রিয়াজ

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৬, ২০:৫২
অসংখ্য সফল চলচ্চিত্রের নায়ক রিয়াজ। কয়েক বছর আগে অনেকটা অভিমানে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ালেও আবার ফিরে আসনে। কিছুদিন আগে শুটিং স্পটে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর হাসপাতাল থেকে ফিরে রুটিন মাফিক জীবন যাপন করছেন রিয়াজ। এবার যুক্ত হলেন রেস্তোরা ব্যবসার সাথে। তার শারীরিক অবস্থা, অভিনয়ে ফেরা ও রেস্তোরা ব্যবসার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী সোহেল।
 
এখন কেমন আছেন?
 
আল্লাহর রহমতে এখন মোটামুটি ভালো। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হচ্ছে। খাবারের মেনুতে বেশ পরিবর্তন এনেছি। ধূমপান ছেড়ে দিয়েছি। নিয়মিত হাটতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটা রুটিন মাফিক জীবন যাপন করছি। আসলে ক্যামেরা ও দর্শকদের দেখলেই অসুস্থতার কথা ভুলে যাই। মনের মধ্যে কেমন যেন একটা পরিবর্তন আপনা আপনিই চলে আসে। এই অসুস্থ হবার পরে একটা সিনেমার শুটিংয়ের সময়েও এমন ঘটনা ঘটেছে। একটা সিকোয়েন্সে হঠাৎ করেই আমি জোরে দৌড় দিয়ে ফেলেছি। ঐ সিকোয়েন্সের জন্য জোরে দৌড়ের প্রয়োজন থাকলেও আমার অসুস্থতার কথা চিন্তা করে পরিচালক সেটা চাচ্ছিলেন না। দৌড় শেষে সবাইতো অবাক হয়ে বললেন, আপনি না অসুস্থ?  
 
তাহলে দর্শক স্বাভাবিক রিয়াজকে পর্দায় আবার কবে দেখতে পাবেন?
 
আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনযায়ী আমার হার্ট-এ আরও একটি রিং পরানো দরকার। কিন্তু সেই রিংটা পরার জন্য একটু সময় নিচ্ছি। আমার ছেলে ও পরিবারের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে কোন কাজে আমি যাচ্ছি না। তবে শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে আবার নিয়মিত কাজ করবো। খুব তাড়াতাড়িই স্বল্প পরিষরে কাজ শুরু করছি। আগামী ১৫ তারিখে একটি টিভি নাটকের কাজের শিডিউল দিয়েছি।
 
চিত্রনায়ক রিয়াজ ঠিক কি চিন্তা করে রেস্তোরা ব্যবসার সাথে যুক্তি হলো?
 
হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যাবার পর থেকেই মিডিয়ার পাশাপাশি একটা কিছু করবো বলে ভাবছিলাম। সেই চিন্তা থেকেই রেস্তোরা ব্যবসার সাথে যুক্ত হওয়া। এর মাধ্যমে মানুষের সেবা তো করা যাবে। আমাদের রেস্তোরাটির পাঁচটি শেয়ার, অর্থাৎ যৌথ ভাবে পাঁচ জন মালিক রয়েছে রেস্তোরাটির। মজার বিষয় হচ্ছে তারা সবাই মহিলা। আর এই পাঁচ মালিকের পাঁচজন স্বামীই এখানে চাকরিতে যুক্ত। আমার স্ত্রী পাঁচ শেয়ারের একটির মালিক। সেই হিসেবে ফুড টোয়েন্টিফোর সেভেন নামের এই রেস্তোরাঁটির পরিচালক বিপণন হিসেবে দায়িত্বে থাকছি আমি। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল ফটকের ডানদিকে গড়া হয়েছে এটি।
 
ঢাকায় অসংখ্য রেস্তোরা আছে সেগুলো থেকে আপনার রেস্তোরার বিশেষত্ব কি থাকছে?
 
২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে আমাদের এই রেস্তোরা, যেখানে আমরা ব্যতিক্রম। কারণ বাংলাদেশে আর কোন রেস্তোরা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে না। এছাড়া এখানে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায়িত্বে থাকছেন সেফ টনি খান। তিনি হোটেল ওয়েস্টিন আর গ্র্যান্ড সুলতানেরও সেফ। টনি খান বিশ্বের সেরা দশজন সেফ এর একজন। আর রেস্তোরাঁর রান্নাঘরকে রাখা হচ্ছে ক্যামেরার আওতায়। এর মাধ্যমে সব ক্রেতা পাকের ঘরের দৃশ্য দেখতে পারবেন অনায়াসে।
 
বিশ্বের সেরা দশের একজন সেফ যেখানে রান্না করবেন, সেখানের খাবারের দামটা বেশি হবে, তাই নয় কি?
 
খাবারের মূল্য একেবারেই বেশি হবে না। কারণ টনি খান পাঁচ তারকা হোটেলে রান্না করেন, সেখানে তার রান্না করা খাবার চড়া মূল্য দিয়ে শুধু ধনিরাই খেতে পারেন। কিন্তু টনি খান চান সাধারণ মানুষ যেন তার রান্না খেতে পারেন। যে কারণে আমাদের এখানে খাবার কম দামে সবাই সাধ্যমতো পাবেন।