একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও মো. ওবায়দুল হক তাহেরের মামলার রায় যেকোনো দিন দেয়া হবে। রবিবার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হকের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
আজ রাষ্ট্রপক্ষে আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল।
এর আগে বুধবার অভিযোগভিত্তিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন উভয়পক্ষ। আসামিপক্ষে ননী-তাহেরের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার এবং রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
প্রসিকিউশন তার যুক্তিতর্কে দাবি করেছেন, অভিযুক্ত আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহেরের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। এজন্য আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আরজি জানানো হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেননি প্রসিকিউশন। তাই এসব অভিযোগ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আরজি জানানো হয়।
গত বছরের ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) তাহের-ননীর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে ২ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, দেশান্তরিতকরণ, বাড়িঘরে আগুন ও লুটপাটের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ৪২ জনকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যা-গণহত্যা, দুই শতাধিক পরিবারের বাড়ি দখল ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে দেশান্তরিতকরণ এবং প্রায় সাড়ে ৪০০ বাড়ি-ঘরে লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
