যশোরের মাটিতে বিশ্বকাপের ফুটবলার

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৬, ০৯:২৫
জিকো, সক্রেটিস, ম্যারাডোনা, পাওলো রসি! ১৯৮২ বিশ্বকাপের এসব মহাতারকার কেউ যে যশোর আসেননি, সেটা সবাই জানেন। তবে একটা ব্যাপার অজানা যে, যশোরের মাটিতে এখন অবস্থান করছেন এসব কিংবদন্তির বিপক্ষে ১৯৮২ বিশ্বকাপ খেলা এক ফুটবলার—রিকি হারবার্ট।
 
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের মধ্য দিয়ে ৫৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলো যশোরের শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে। সবার অলক্ষ্যে আরও একটি রেকর্ডে নাম উঠল যশোরের। সেটি হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের পায়ের স্পর্শ পেল স্টেডিয়ামটি।
 
১৯৮২ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা রিকি হারবার্টের স্টেডিয়ামে উপস্থিতির মাধ্যমে ঘটনাটা ঘটলো। রিকি হারবার্ট কেবল ১৯৮২ বিশ্বকাপ খেলেছেন, তাই নয়। দুই দুটো বিশ্বকাপের সাক্ষী তিনি। নিজের দেশ নিউজিল্যান্ডের কোচ হিসেবে ২০১০ বিশ্বকাপেও গিয়েছিলেন রিকি। তিনি মালদ্বীপ দলের কোচ হয়ে এসেছেন এখানে। রবিবার বিমান থেকে নেমে তারা সরাসরি চলে যান নির্ধারিত হোটেলে। আয়োজকদের প্রস্তুতি ছিল অনুশীলনের। কিন্তু অনুশীলনে যায়নি দলটি।
 
সহকারী কোচকে সাথে নিয়ে রিকি চলে আসেন বাংলাদেশ অলিম্পিক দল ও বাহরাইনের মধ্যকার ম্যাচ দেখতে। আজকের (সোমবার) প্রতিদ্বন্দ্বী কম্বোডিয়া ছাড়াও গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে দল দুটির মোকাবিলা করতে হবে মালদ্বীপকে। স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার পর তিনি মুখোমুখি হন ইত্তেফাকের।
 
১৯৭৮ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু রিচির। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের তারকা খেলোয়াড় জিকো, সক্রেটিসের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা তার স্মৃতিতে আজও জ্বলজ্বল হয়ে রয়েছে। ২০০৫ সালে তার কোচ জীবনের অভিষেক। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তিনি নিউজিল্যান্ড দলের কোচ ছিলেন। গ্রুপ পর্বের ৩টি খেলাতেই তার দল ড্র করে। হারেনি একটি ম্যাচেও। সেই বিশ্বকাপের শক্তিধর ইটালি, প্যারাগুয়ে ও স্লোভাকিয়ার পয়েন্টে ভাগ বসানোর সুবাদে নিউজিল্যান্ড ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৫৬ থেকে ৪৭-এ উঠে আসে। 
 
রিচি হারবার্ট জানান, তিনি ৪ মাস আগে সেপ্টেম্বরে মালদ্বীপের কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে গত মাসে মালদ্বীপের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যাওয়ায় বিদায় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশ দলের। দেশে ফিরে বাংলাদেশ দলের কোচ মারুফুল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘মালদ্বীপ তেমন ভালো দল নয়।’ কথাটা তাকে জানাতেই খানিকটা চটে গেলেন যেন। রাগটা চেপে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করলেন, ‘তবে ৩-১ গোলে আমরা জিতলাম কিভাবে?’
 
নিউজিল্যান্ডের মতো উন্নত দেশ ছেড়ে ফুটবল দুনিয়ার অপেক্ষাকৃত দুর্বল অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালদ্বীপের কোচ হলেন কেন— জানতে চাইলে বলেন, চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে খুব ভালো লাগে। তাই এসেছি। এ অঞ্চলের ৩-৪টি দল ভালো ফুটবল খেলে বলে অভিমত তার। কতদিনের চুক্তি মালদ্বীপের সাথে জিজ্ঞেস করলে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে একেবারেই রাজি হলেন না তিনি। পাল্টা প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশের কোচ হবার অফার পেলে নেবেন কিনা? স্মিত হাসি দিয়ে ৫৪ বছর বয়সী রিকি বলেন, ‘নিশ্চয়ই।’ কিছুটা সময় পেয়ে বিশ্বকাপ খেলুড়ে রিচির কাছে জানতে চাই, পেলে আর ম্যারাডোনা— কাকে এগিয়ে রাখবেন সেরা ফুটবলারের বিবেচনায়? ‘দুজনকেই।’ বললেন সরাসরি। আর এ যুগের নেইমার-মেসির মধ্যে? ‘অবশ্যই মেসি।’