ঘুরে দাঁড়াতে বিএনপির নতুন পরিকল্পনা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৬, ২৩:৩৩
সরকার পতন আন্দোলনের আশা ম্লান হওয়ার পর থেমে থাকছে না বিএনপি। তারা নিজেদের মতো করে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই পথেই সাফল্য আসবে এমন আশায় অগ্রসর হচ্ছে। এখন মূল টার্গেট দলকে নতুন নেতৃত্বে, নব আঙ্গিকে ঢেলে সাজিয়ে শক্তিশালী করা। আপাতত: পুরো নজর সাংগঠনিক স্থবিরতার অচলায়তন ভাঙ্গার দিকে।
 
বিগত আন্দোলনে হতাশাজনক ’পারফরমেন্স’ করা নেতাদের সাইড লাইনে রেখে দলের ভেতর থেকে বিশ্বস্ত ত্যাগী ও লড়াকু নেতাদের পুরোভাগে তুলে আনতে চাচ্ছেন দলের হাইকমান্ড। যারা নিরবিচ্ছিন্ন আন্দোলনে সরাসরি মাঠে থাকবেন। পৌর নির্বাচনের পর ইতিমধ্যে সারাদেশে জেলা-উপজেলায় জোরেশোরে দল পুনর্গঠনে  নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। গত আগস্ট থেকে শুরু হওয়া পুনর্গঠন কার্যাক্রম বেশ কিছু জেলায় শেষ হয়েছে। শিগগিরই অন্য জেলাগুলোতেও সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সরকারের বাধার কারণে সারাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ করা যাচ্ছে না।
 
কেন্দ্র থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপির ৭৪টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে সাত জেলায় ইতিমধ্যে সম্মেলন হয়েছে। সম্মেলন করার পর্যায়ে আছে ১৫ জেলা। এদিকে প্রস্তুতি চলছে জাতীয় কাউন্সিলের। দলের নেতারা জানিয়েছেন, আগামী মার্চের শেষ সপ্তাহে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আগে হবে কাউন্সিল। ২৮ মার্চ আওয়ামী লীগ জাতীয় কাউন্সিল করবে। তার আগেই বিএনপি করতে চাচ্ছে। বড় আকারে কাউন্সিল করার ক্ষেত্রে সরকার প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করলে ছোট আয়তনে হলেও কাউন্সিল হবে বলে জানান, একজন দায়িত্বশীল নেতা। তবে, কাউন্সিলের ধরণ নির্ভর করছে পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর।
 
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ইত্তেফাককে বলেছেন, ইউপি নির্বাচনের আগে কাউন্সিল হবে। ছয় বছর ধরে সরকারের বাধার মুখে কাউন্সিল করা যাচ্ছে না। দুই দফা উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকার পন্ড করে দেয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ কাউন্সিলের সব আয়োজন শেষ করা হয়। ১২ মার্চ বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে পুলিশ তল্লাশীর নামে সব কাগজপুত্র নিয়ে যায়। এখন কাউন্সিল করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।
 
দলের একজন সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপির সিনিয়র নেতা; বিশেষ করে স্থায়ী কমিটি, ভাইস-চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপুর্ন পদে যারা আছেন তাদের অধিকাংশই নিস্ক্রিয় অথবা রোগাক্রান্ত - বয়সের ভারে ন্যুজ। বেগম জিয়া গুরুত্বপুর্ন বৈঠক ডাকলেও সিনিয়রদের হাজিরা মেলে কম। ফলে দলের প্রয়োজনেই নতুন নেতৃত্বের আগমন অর্গলমুক্ত করার দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন চেয়ারপার্সন। ঐ নেতা বলেন, সরকার সুযোগ দিলে বড় করেই কাউন্সিলের আয়োজন করবে বিএনপি। তবে, সরকার অনমনীয় থাকলে ছোট আকারে কাউন্সিল করে খালেদা জিয়াই নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেবেন। এ নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই চেয়ারপার্সন সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
 
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এবারের কাউন্সিলে সংশোধনী আসতে পারে বিএনপির গঠনতন্ত্রে। স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন পদে আসতে পারে কিছু নতুন মুখ। ৩৮৬ সদস্যের নির্বাহী কমিটির আকারও  ছোট হতে পারে। ঢাকা মহানগরকে উত্তর-দক্ষিনে ভাগ করা হতে পারে।
 
দলের নেতারা জানিয়েছেন, দল গোছানো শেষ হলে অত:পর আবারো কঠোর আন্দোলন করার প্রস্তুতি নেয়া হবে। এবারের পরিকল্পনা হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী। অতীতের মতো অগোছালো অথবা তাড়াহুড়ো করে কোন কিছু করবে না দলটি।
 
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে আমাদের নতুন করে চিন্তা করতে হচ্ছে। সঠিকভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
 

প্রসঙ্গত যে, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিয়মিত নির্বাচিত কমিটি থাকার কথা বলা হলেও বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলের পর ইতিমধ্যে ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলের পর বিভিন্ন কমিটিতে নির্বাচিত অনেকে এখন নিস্ক্রিয়। কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন। দলের শূন্য মহাসচিবের পদে দীর্ঘ দিন ধরে ভারপ্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। দলের গঠনতন্ত্রে বলা আছে, জাতীয় কাউন্সিলে তিন বছরের জন্য দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হবে। সে হিসাবে গত ছয় বছরে দুইটি কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি একটিও। ২০১২ সালে কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিয়ে স্থগিত করা হয়। পরে আবার ২০১৩ সালের ১৯ মার্চে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সময় নিতে হচ্ছে।