মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজের শেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলাম বিরোধী বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে তিনি নিজের এই অবস্থান তুলে ধরেন।।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে বলেছিলেন, আমেরিকায় মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া উচিত। এছাড়া আরো এমন ইঙ্গিত দেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যেমন জাপানিদের আলাদা করে ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল সেটা যেন মুসলিমদের জন্য করা হয়। বারাক ওবামা এতদিন এই বিষয়ে সরাসরি কোনকিছু না বলেননি। নিজের শেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ওবামা বলেন, যখন কোনও রাজনীতিবিদ নিজ দেশের বা বিদেশের মুসলিমদের অপমান করে বক্তব্য দেয়, যখন কোনও মসজিদ ভাংচুর করা হয়, সেটা আমাদেরকে নিরাপদ করে না। এটা সঠিক নয়। এটা বিশ্বের চোখে আমাদেরকে ছোট করে ফেলে। এটা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছনোকে কঠিন করে তোলে। এটা আমাদের দেশের সাথে প্রতারণা করবার সামিল।
ওবামা আরো বলেন, ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্ম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তার এই বক্তব্য দেবার সময় উপস্থিত কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ করতালিতে ফেটে পড়েন। প্রেসিডেন্ট ওবামার ওই স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ চলাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পও সেখানে উপস্থিত ছিল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের শেষ মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন ওবামা।আজ ছিল তার শেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ।
মার্কিন কংগ্রেসের সামনে দেয়া বার্ষিক এই ভাষণে প্রথা অনুযায়ী পরবর্তী বছরের জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা এবং সরকারের আসন্ন নতুন নীতিমালা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা। কিন্তু আজকের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ওবামা নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরার বদলে নিজের বিগত কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরাতেই বেশী মনযোগী ছিলেন। ওবামা তার ভাষণে দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কার এবং কিউবার সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন। ওবামা বলেন, “এই চেম্বারে আমার শেষ ভাষণে শুধুমাত্র নতুন বছর নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি ভবিষ্যতের দিকেও আলোকপাত করতে চাই।
তার বর্তমান মেয়াদ নিয়ে যেসব নেতিবাচক সমালোচনা রয়েছে ওবামা সেগুলো খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শক্তিশালী, সবচে টেকসই অর্থনীতি বিদ্যমান। নতুন নীতি তুলে ধরার পরিবর্তে ওবামা তার সরকারের কর্মকাণ্ডের সাফাই দেওয়ার দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আয়ের অসাম্য, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা যায় সেসব বিষয়ের দিকেই আলোকপাত করেছেন। বিবিসি
