নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাহিলী ইউনিয়নের কালুর ঘাটপাড়া গ্রামে অশো বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ দুই সন্তানের জননী আফরোজা বেগম গাঁ-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, ওই বৃদ্ধার স্বামী কালুয়া মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বৃদ্ধার বড় ছেলে দুই সন্তানের জনক রজব আলী (৪০) অসুস্থ। অবিবাহিত ছোট ছেলে আরিফ (২৫) দিনমজুরি করেন। সংসারে বড় ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ঝগড়া লেগে থাকতো এই বৃদ্ধার। সোমবার এই বিবাদ চরম আকার ধারন করে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে গ্রামের অদুরে একটি বট গাছে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই বৃদ্ধার লাশ ঝুলতে দেখে এলাকাবাসী। পুত্রবধূ আফরোজা লাশ নামিয়ে তা দাফনের জন্য গ্রামবাসীর কাছে অনুরোধ করেন। কিন্তু গ্রামবাসী এই নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে না পারায় বিকালে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের কথা জানতে পেরে আফরোজা পালিয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এলাকাবাসীর মতে, ওই গাছের উপর উঠে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার মতো ওই বৃদ্ধার শক্তি নেই। তাই সবাই ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মন্তব্য করে।
কিশোরগঞ্জ থানার এসআই শাহজাহান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক ভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে। রির্পোট পেলে ঘটনার মূল কারণ বেরিয়ে আসবে।'
