তৃণমূল বিএনপির পুনর্গঠনের নির্দেশ

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৬, ১৫:১৭
প্রতিবন্ধকতা দূর করে আগামী মার্চের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগেই তৃণমূল বিএনপির পুনর্গঠন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে গতকাল চেয়ারপার্সনের গুলশান অফিসে পুনর্গঠন কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ, স্থগিত ও বাতিল কমিটির দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কোন অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। যেসব জেলা দল সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে সেসব জেলায়             সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে কেন্দ্রকে জানাতে বলা হয়। বার বার সময় দেয়ার পরও যারা সংশ্লি­ষ্ট জেলা বা মহানগরের অধীনে থাকা থানা বা ওয়ার্ড কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের কমিটি ভেঙে দিয়ে সম্মেলন করার জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন জানান, পৌর নির্বাচনের কারণে নেতাদের অনুরোধে মাঠ পর্যায়ের পুনর্গঠন কার্যক্রম স্থগিত ছিলো। সেটা আবারো চালু করা হলো। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হবে। চেয়ারপার্সনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছি। গতকাল পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।
 
গত ৯ আগস্ট এক চিঠিতে বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা ও এর অন্তর্গত সকল উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠনের জন্য নির্দেশ পাঠায় কেন্দ্র। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনর্গঠন শেষ করে কেন্দ্রকে জানানোর জন্য আল্টিমেটাম দেয়া হয়। তবে বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে দুই মাস অবস্থান, নেতাদের কারাবরণ, আত্মগোপন ও অসহযোগিতার কারণেই মাঠ পর্যায়ের এই প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। কোনো কোনো জেলা সোত্সাহে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করলেও বহু এলাকায় কোনো কাজই হয়নি। শীর্ষ নেতাদের বার বার তাগাদা কোনো কাজে আসেনি। এ পর্যন্ত মাত্র ১০টি জেলার কমিটি হয়েছে। সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ২৪-২৫টি জেলা। এই জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—বরিশাল মহানগর ও জেলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ প্রভৃতি।
 
বুধবার রাতে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে সদ্য কারামুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আ স ম হান্নান শাহ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান প্রমুখ বৈঠক করেন। তার আগে গুলশানে তার অফিসে এনিয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সেখানে পৌর নির্বাচন শেষ হলেও দলের পুনর্গঠন কার্যক্রমে কোনো উদ্যোগ দেখতে না পাওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে এর কারণ জানতে চান খালেদা জিয়া। কোনো নেতাই তার সামনে এসবের সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তবে যত শিগগির সম্ভব পুনর্গঠন কার্যক্রম আবার শুরু হবে বলে এসব নেতা চেয়ারপারসনকে জানান।
 
খালেদা জিয়া বলেন, পুনর্গঠন কার্যক্রমে কোনো প্রতিবন্ধকতা সহ্য করা হবে না। তিনি ইউপি নির্বাচনের আগেই পুনর্গঠন শেষ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আগে দল গঠন, পরে আন্দোলন। এই প্রেক্ষিতে গতকাল বৈঠক ডাকা হয় বলে জানা গেছে।
 
ছয় বছর আগে বিএনপির কাউন্সিল হলেও মাঠ পর্যায়ের পুনর্গঠন হয়নি। এলাকায় এলাকায় প্রভাবশালী নেতারা কুক্ষিগত করে রেখেছেন কমিটি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর কাউন্সিল করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের কথা থাকলেও গত ৬ বছরেও তা করতে পারেনি দলটি।
 
এদিকে গতকাল কৃষক দল পুনর্গঠন ও সম্মেলন বিষয়ে এক জরুরি সভা করেছে সংগঠনটি। নয়াপল্টনে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা হয়।
 
কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহ-সভাপতি আলহাজ নাজিমউদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম ও জামালউদ্দিন খান মিলন, দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হায়দার পলাশ, সহ-দপ্তর সম্পাদক এসকে সাদী প্রমুখ। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আশা করছি, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সম্মেলন করতে পারব।’