সংঘাতময় পরিস্থিতিসহ নানা কারণে বিশ্বব্যাপী অভিবাসনের হার আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে মানুষ অন্য দেশে গিয়ে অভিবাসনের চেষ্টা করছে। তবে যেসব দেশে যুদ্ধবিগ্রহ নেই সেসব দেশের নাগরিকরাও নিজ দেশ ছাড়ছে। অভিবাসনের যে হিসাব জাতিসংঘ দিয়েছে তাতে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে ভয়াবহ। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে কম যায়নি। ২০০০ সালে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট অভিবাসীর সংখ্যা ছিলো নয় লাখ ৮৮ হাজারের মতো। ২০১৫ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ২২ হাজারের ওপরে। জাতিসংঘের হিসেবে ২০১৫ সালে মোট ২৪ কোটি ৪০ লাখ লোক অভিবাসী হয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে তা ৪১ শতাংশ বেশি। হিসাবটিতে দুই কোটি উদ্বাস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, এই হিসাব হয়েছে এক দেশে জন্মগ্রহণ করে অন্য দেশে স্থায়ী বসবাসের ভিত্তিতে।
অভিবাসন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। সংস্থার মহাসচিব বান কি মুন অভিবাসী এবং উদ্বাস্তুর বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদে সে রোডম্যাপ নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনও ডেকেছেন তিনি। ইতিমধ্যে বান কি মুনের জন্য একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মনে করছে, অভিবাসনের কাজটি যদি ঠিকঠাক মতো হয় তাহলে তা অভিবাসনের উেসর দেশ এবং অভিবাসন নেয়া দেশ- এ দুই পক্ষের জন্য ভালো হবে।
‘ট্রেন্ডস ইন ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেন্ট স্টক: দ্যা ২০১৫ রিভিশন’- শীর্ষক রিপোর্টে জাতিসংঘ বলেছে, পৃথিবীর জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে তার চেয়ে বেশি হারে বাড়ছে অভিবাসীদের সংখ্যা। এখন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার তিন দশমিক তিন শতাংশ হচ্ছে অভিবাসী। ২০০০ সালে এ হার ছিলো দুই দশমিক আট শতাংশ। বিশ্বের মোট অভিবাসীর অর্ধেকের জন্ম এশিয়ার দেশগুলোতে। আর এশিয়ার দেশগুলো থেকে দুই কোটি ৬০ লাখ লোক ২০১৫ সালে অভিবাসী হয়েছে।
২০১৫ সালে অভিবাসনের যে হিসাব জাতিসংঘ দিয়েছে তাতে দেখা যায় যে, দুই-তৃতীয়াংশ অভিবাসী ২০টি দেশে বাস করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মোট অভিবাসীর ১৯ শতাংশ ধারণ করে। এর পরের অবস্থান হচ্ছে জার্মানী, রাশিয়া, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের। গত বছর ভারতের মোট ১৬ লাখ লোক অন্য দেশে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে। অন্যান্য যেসব দেশের অভিবাসন আলোচ্য সময়ে বেড়েছে সেগুলো হচ্ছে- রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ইউক্রেন।
এছাড়া উন্নত দেশগুলো থেকে ২০১৫ সালে অভিবাসন নিয়েছে মোট ১৪ কোটি চার লাখ ৮২ হাজার মানুষ। ২০০০ সালে এ সংখ্যা ছিলো ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার। উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে ২০১৫ সালে অভিবাসী হয়েছে ১০ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার, ২০০০ সালে ছিলো ছয় কোটি ৯৩ লাখ ২৭ হাজার। স্বল্পোন্নত দেশগুলো থেকে ২০১৫ সালে অভিবাসন নিয়েছে এক কোটি ১৯ লাখ, ২০০০ সালে যা ছিলো এক কোটি ৭১ লাখ।
এশিয়ার চিত্র
২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১৪ লাখ ২২ হাজার লোক বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নিয়েছে। ২০০০ সালে এ সংখ্যা ছিলো নয় লাখ ৮৮ হাজার। ২০১৫ সালে এশিয়ার অন্য যেসব দেশ থেকে অভিবাসী গিয়েছে সেসব দেশ এবং অভিবাসনের সংখ্যা হচ্ছে- আফগানিস্তানের তিন লাখ ৮২ হাজার, ভুটানের ৫১ হাজার, ভারতের ৫২ লাখ ৪১ হাজার, মালদ্বীপের ৯৪ হাজার, নেপালের ৫ লাখ ১৮ হাজার, পাকিস্তানের ৩৬ লাখ ২৯ হাজার, শ্রীলংকার ৩৮ হাজার।
