যে শিল্প জীবনমানের পরিবর্তন আনে না সেটা শিল্প নয় : আলপনা আক্তার

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৬, ১৬:১২
নির্মাতা ও শিক্ষিকা আলপনা আক্তার। সম্প্রতি নির্মাণ করলেন প্রথম টিভি নাটক। রবীন্দ্রনাথের ‘তপস্বিনী’ গল্প অবলম্বনে নাটকটি নির্মাণ করেছেন তিনি। শিগগিরই এনটিভিতে প্রচার হবে এই নাটকটি। পাশাপাশি তিনি মঞ্চ নিয়ে ব্যস্ত আছেন নিয়মিতই। প্রথম নির্মিত নাটকের উদ্দেশ্য, টিভি নাটক নিয়ে সামনের পরিকল্পনা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিল্পচর্চার বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
 
‘তপস্বিনী’ নাটকটি প্রসঙ্গে বলুন—
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তপস্বিনী’ গল্প অবলম্বনে আমার এই নাটকটি। চিত্রনাট্য লিখেছেন মান্নান হীরা। আগামীকাল (আজ) এনটিভিতে নাটকটি প্রচারের কথা ছিল, কিন্তু একটু সমস্যার কারণে প্রচার হচ্ছে না। তবে শিগগিরই নাটকটি প্রচার হবে। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, সজল, ড. এনামুল হক প্রমুখ। এটা আমার প্রথম টিভি নাটক পরিচালনা। আমি একটি স্কুলের শিক্ষিকা। সেখানের মঞ্চ নাটকগুলো নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছি।
 
প্রথম টিভি নাটক করতে গিয়ে অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
 
অভিজ্ঞতা তো আসলে ভালো-খারাপ মিলিয়েই হয়। তবে আমি সৌভাগ্যবান যে প্রথম নাটকে কয়েকজন গুণী মানুষকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
 
নাটকটি করার উদ্দেশ্য?
 
অবশ্যই উদ্দেশ্য নিয়ে নাটকটি করেছি। আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটকের ছাত্রী ছিলাম। সেলিম আল দ্বীন আমার সরাসরি শিক্ষক। আর রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আমি এর আগেও কাজ করেছি। সেখান থেকেই রবীন্দ্রনাথের প্রতি একটি দুর্বলতা তৈরি হয়। তাই আমার প্রথম টিভি নাটকটি তার গল্প অবলম্বনে করা। টিভি নাটক দর্শকরা ঘরে বসে দেখতে পাবেন। এই গল্পটিতে দেখানো হয়েছে বিএ পাস না করা পর্যন্ত বাবা ছেলেকে বউ-এর কাছ থেকে দূরে রাখে। এক সময় ছেলে মানসিক চাপে সন্ন্যাসী হয়ে যায়। এখানের পরিবারের একটি গল্প আমি দর্শকদের দেখাতে চেয়েছি। আমি মনে করি জীবনের জন্যই শিল্প। আর যে শিল্প জীবনমানের পরিবর্তন আনে না সেটা শিল্প নয়।
 
পরবর্তী নাটকের পরিকল্পনা কি?
 
পরবর্তী নাটক নিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি পরিকল্পনা করেছি। সেলিম আল দ্বীন স্যারের একটি কাজ করার ইচ্ছে আছে। টিভি নাটক নিয়মিত নির্মাণ করতে চাই। তবে খুব বেশি নয়। বছরে দুই-তিনটা নাটক নির্মাণের উদ্দেশ্য আছে।
 
আমাদের দেশের প্রাথমিক স্কুলগুলো শিল্পচর্চা থেকে এখনও পেছনে রয়েছে। এর উত্তরণ কি মনে করেন?
 
শহর কেন্দ্রিক ভালো স্কুলগুলো এখন শিল্পচর্চার দিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের গ্রামে বা মফস্বলে এখনও এই বিষয়টি থেকে পিছিয়ে আছে। নিজস্ব উদ্যোগটা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিল্পটা যদি আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার শুরুর দিকে চর্চা শুরু হয় তাহলে আমাদের শিল্প ভবিষ্যতে আরও উন্নত পর্যায়ে যাবে।