তাইওয়ানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) প্রধান সাই ইং ওয়েং। এর ফলে সাই ইং ওয়েং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন। আর তার দল দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এর ফলে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এক বক্তব্যে তাইওয়ানে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সমর্থন দানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
জয়ের পর সাই ইং ওয়েং এক বক্তব্যে বলেছেন, তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন। তিনি বলেন, আশা করি বেইজিং তাইওয়ানের গণতন্ত্রকে শ্রদ্ধা জানাবে এবং উভয় পক্ষই কোনো ধরনের উস্কানি দেবে না। উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটি মনে করে, তাইওয়ান একদিন তাদের সঙ্গে একীভূত হবে। প্রয়োজনে জোর করে তাদের একীভূত করা হবে। সাই ইং ওয়েং বলেন, তাইওয়ানে একটা নতুন যুগের সূচনা ঘটলো। তিনি বড় ইস্যুতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আর চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নির্ভর করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর। তিনি চীনে অবস্থান করা তাইওয়ান নাগরিক এবং তার দেশের নাগরিকদের মধ্যে পরস্পরের শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার আহবান জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন করা হবে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার নামান্তর। ক্ষমতাসীন দল কুয়োমিনতাংয়ের প্রধান এরিক চু পরাজয় স্বীকার করে সাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই দলটি গত প্রায় ৭০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। দলটি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তিনি দলের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগেরও ঘোষণা দেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাও চি কুও পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে চীন ও তাইওয়ানের ঐতিহাসিক বৈঠক হয়। এর আগে ডিপিপি ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তাইওয়ানের ক্ষমতায় ছিল। ওই সময় চীনের সঙ্গে সম্পর্কটা খুব একটা ভালো যায়নি।
